rajasthan magazine

ওয়েবডেস্ক: সুস্থ থাকার জন্য মহিলাদের করতে হবে ধান বা গম ইত্যাদি পেশাইয়ের কাজ, জল ভর্তি হবে কলসিতে, ঝাঁট দিয়ে মুছতে হবে ঘর। কোনো সাধুবাবা বা ধর্মগুরুর বিধান নয়, এই বিধান রাজস্থানের শিক্ষা দফতরের মাসিক পত্রিকার।

‘শিবিরা’ নামের এই পত্রিকা সাধারণত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য তৈরি হয়। সাধারণত শিক্ষা, কোনো মহান ব্যক্তিত্বের পরিচয় এবং সাধারণ জ্ঞানের বিষয়েই জায়গা পায় এই পত্রিকায়। এই পত্রিকার নভেম্বরের সংস্করণে অন্য বিষয়গুলি ছাড়া মহিলাদের জন্য চোদ্দোটা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘সুস্থ থাকার সহজ উপায়’ শীর্ষক এই নির্দেশাবলিতে বলা হয়েছে মদ্যপান করা যাবে না। বর্জন করতে হবে পেপসি এবং কোকা কোলাও। প্রাতঃভ্রমণ, দৌড়োনো, সাইকেল চালানো এবং সাঁতার শরীরকে সুস্থ রাখলেও, মহিলাদের জন্য এই গৃহকর্মের নির্দেশগুলিই দেওয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে সাধারণ খাওয়া এবং আধ্যাত্মিক চিন্তাধারায় খাবার গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে ওই নির্দেশাবলিতে।

যথারীতি এই নির্দেশের পরেই রাজস্থান সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেছে মানবাধিকার কর্মীরা। পিপল্‌স ইউনিয়ন ফর সিভিল রাইট্‌সের জাতীয় সচিব কবিতা শ্রীবাস্তব বলেন, “বাঁধাধরা চিন্তাধারা থেকে শিক্ষাকে মুক্ত করা উচিত। কিন্তু তা না করে এই শিক্ষা সেই চিন্তাধারাগুলিকে আমাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিচ্ছে।”

সুনির্দিষ্ট ভাবে মহিলাদের জন্য এই গৃহকর্মের বিধান দেওয়া যে উচিত হয়নি সে কথা মেনে নিয়েছেন রাজ্যের মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের ডিরেক্টর নথমল দিদেল। কিন্তু তবুও তিনি বলেন, “আসলে আমাদের সমাজ তো এ রকম ভাবেই চলে আসছে। আমার ধারণা এই পত্রিকার লেখক প্রাচীন চিন্তাধারার মানুষ। কিন্তু নারী এবং পুরুষদের মধ্যে কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য আমাদের নেই।”

তবে এটাই প্রথম নয়, এ রকম অনেক অদ্ভুত নির্দেশ দিয়েছে রাজস্থানের আরও কিছু পত্রিকা। এ বছরের শুরুতে প্রকাশিত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পত্রিকায় বলা হয়েছিল, মাংস খাওয়ার ফলে শরীরের অনেক ক্ষতি হয়। ওই বইতেই বলা হয়েছে পড়ুয়াদের খেতে বসার আগে একটা ছ’লাইনের মন্ত্র উচ্চারণ করা উচিত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here