ধর্মগুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের সংগঠন আর্ট অফ লিভিং আয়োজিত ওয়ার্ল্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যালে যমুনা-তীরবর্তী জমি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এলাকার জীববৈচিত্র্যে যে ‘অদৃশ্য ক্ষতি হয়েছে, তা কখনও পূরণ করা যাবে না’ বলে জানাল বিশেষজ্ঞদের প্যানেল। জাতীয় গ্রিন ট্রাইবুনাল নিযুক্ত এই প্যানেল গত ২৮ জুলাই তাদের রিপোর্ট গ্রিন ট্রাইবুনালে জমা দিয়েছে। গত মার্চ মাসে আয়োজিত হয়েছিল ওই উৎসব।

কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রকের সচিব শশী শেখরের নেতৃত্বে তৈরি সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল রিপোর্টে বলেছে, যমুনার দক্ষিণ তীরে যে জমিতে অনুষ্ঠানটি হয়েছিল, সেটা যে শুধু ধ্বংস হয়েছে তা-ই নয়, জমিটি এখন পুরোপুরি সমান এবং জমাট করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে এখন কোনও জলজ উদ্ভিদ ও গাছপালার চিহ্ন পর্যন্ত নেই। কমিটি বলেছে, গত ১৫ এপ্রিল যখন তারা এলাকা পরিদর্শনে যায়, তখন আর্ট অফ লিভিং-এর স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের ঢুকতে দেয়নি। পরে ৬ জুন তারা ফের এলাকাটি দেখতে যান। ১৫ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত পাওয়া উপগ্রহ চিত্র এবং তাঁদের পর্যবেক্ষণ যুক্ত করে তাঁরা রিপোর্টটি তৈরি করেছেন।

অন্য দিকে আর্ট অফ লিভিং জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ ‘অবৈজ্ঞানিক, পক্ষপাতপূর্ণ এবং এটা টিকবে না’। সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিবেশবিদ প্রভাকর রাও বলেন, “ওরা ৪৫ মিনিট এলাকায় ঘুরে বলে দিয়েছে ২২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এই রিপোর্টের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।” যদিও সংগঠনের বক্তব্য, তারা ওই কমিটি পুনর্গঠনের জন্য গ্রিন ট্রাইবুনালের কাছে আবেদন জানিয়েছে, তাদের আবেদনের শুনানি না হওয়া অবধি, কমিটির পেশ করা রিপোর্ট নিয়ে তারা কোনও মতামত দিতে চায় না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here