খবর অনলাইন ডেস্ক: কোনো মানুষের মাথার উপর যদি দুর্ভাগ্যবশত ছাদ না থাকে, অথবা পরার জন্য কাপড় না থাকে, তা হলেও হয়তো কোনো রকমে বেঁচে থাকা যায়! কিন্তু খাবার যদি না থাকে? পুষ্টির অভাবে জীবনধারণ তখন ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

তাই তো ক্ষুধার বিরুদ্ধে প্রতিমুহূর্তের লড়াই চলছে বিশ্ব জুড়ে। সেই লড়াই সম্পর্কে জন সচেতনতা বাড়িয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েই প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব খাদ্য দিবস (World Food Day)।

ইতিহাস বলে, সামাজিক রূপান্তর থেকে শুরু করে উন্নয়ন এবং বিস্তারের কাজে অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে খাদ্য। কিন্তু এই একবিংশ শতাব্দীতেও অনেকের কাছেই খাদ্যসুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। যে কারণে, বর্তমান বিশ্বে এই খাদ্যসুরক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

কেন ১৬ অক্টোবর?

এই নির্দিষ্ট দিনটিতে খাদ্য দিসব পালনের একটি ঐতিহাসিক কারণও রয়েছে। এই দিনটিই খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন)-এর প্রতিষ্ঠা দিবস। রাষ্ট্রসঙ্ঘের একটি সংস্থা হিসাবে ১৯৪৫ সালে এই সংস্থাটি স্থাপিত হয়েছিল।

পর্যাপ্ত খাদ্য এবং পুষ্টির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্ব খাদ্য দিবস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাবে পালিত হয়। পালন করা হয় ভারতেও।

বিভিন্ন দেশেই ক্ষুধার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করে চলেছেন অসংখ্য মানুষ। সার্বিক ভাবে সচেতনতা বাড়িয়ে এই সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। যে কারণে প্রতিবছরের ১৬ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা নিবারণ অথবা বিশ্ব থেকে ক্ষুধা নির্মূলের জন্য এই দিনটিকে বিশেষ ভাবে পালন করা হয়।

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২০-র থিম

নির্দিষ্ট একটি উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিবছরই নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের উপর মনোনিবেশ করা হয়। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ওই বিষয়টিকেই বলা হয় থিম।

এ বছরের থিম হল- “সকলকে সঙ্গে নিয়ে বিকশিত হোন, শরীরের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন। আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ”। অর্থাৎ, সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করেই বিকাশের পথে এগিয়ে চলুক বিশ্বসমাজ। ভবিষ্যতের জন্য এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিশ্ব খাদ্য দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য:

*কৃষি খাদ্য উৎপাদন করতে উৎসাহিত করা

*অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত করা

*গ্রামের মানুষের অবদান সম্পর্কে উৎসাহিত করা, বিশেষ করে নারী ও অন্তজ শ্রেণীকে বিশেষ সুযোগ দেওয়া

*উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রযুক্তি স্থানান্তর সম্পর্কে প্রচার করা

*ক্ষুধা, অপুষ্টি ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই সম্পর্কে সমস্ত জাতিকে উৎসাহিত করা এবং সচেতনতা বাড়ানো

*কৃষি উন্নয়ন সম্পর্কে নজর দেওয়া (তথ্য: এনএইচপি ইন্ডিয়া)

ক্ষুধার বিরুদ্ধে সব থেকে ভালো ভ্যাকসিন খাবার! 

২০২০ নোবেল শান্তি পুরস্কার (Nobel Peace Prize) পেয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের খাদ্য সহায়তা সংক্রান্ত শাখা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (World Food Programme)। সংঘর্ষ কবলিত অঞ্চলে ক্ষুধা নিবারণ এবং শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার জন্যই সংস্থাকে এই শান্তি পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি।

ওসলোয় পুরস্কার ঘোষণা করে নোবেল কমিটির প্রধান ব্রেইট রেইস-অ্যান্ডারসন বলেন, সারা বিশ্ব জুড়ে ক্ষুধার বিরুদ্ধে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (WEP)। তারই স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হল। আরও পড়তে পারেন এখানে: ক্ষুধার বিরুদ্ধে সব থেকে ভালো ভ্যাকসিন খাবার! নোবেল শান্তি পুরস্কার পেল ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন