মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ে লেখক মুরুগানের ‘পুনর্জীবন’

0

খবর অনলাইন: পেরুমল মুরুগানকে মনে আছে, যিনি তাঁর লেখকসত্তাকে নিজের হাতে খুন করেছিলেন ? ফেসবুকে পোস্টে লিখেছিলেন, “লেখক পেরুমল মুরুগান মারা গেল। সে ঈশ্বর নয়, অতএব তার পক্ষে পুনর্জীবন লাভ সম্ভব নয়।”

না, পেরুমল ঈশ্বর না হলেও তাঁর পুনর্জীবন সম্ভব হল। সম্ভব হল মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ে। রায় শুনে পেরুমল বলেছেন, “আবার জেগে উঠব। লেখা শুরু করব। তবে এই মুহূর্তের আনন্দে কিছু সময় ব্যয় করতে আমার মন উন্মুখ।”

ঘটনাটা কী ঘটেছিল, এক বার মনে করা যাক। তিরুচেনগোড়ের এই লেখক একটা উপন্যাস লিখেছিলেন। নাম, ‘মধোরুবাগা’। প্রাচীন কালের প্রেক্ষিতে রচিত তাঁর এই উপন্যাস। বিষয়বস্তু, সে সময়ের এক মন্দিরের আচার অনুযায়ী সন্তানলাভের জন্য এক বিবাহিত মহিলা তাঁর পরিবারের সম্মতিতেই পরপুরুষের সঙ্গে সংসর্গ করেন। ব্যাস, এই যথেষ্ট। উপন্যাসের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পড়ল কিছু মানুষ। তাদের অভিযোগ, ওই বইয়ে এক দেবতাকে এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নারীদের অপমান করা হয়েছে। এই প্রতিবাদ চললে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে যাবে, অশান্তি দেখা দেবে, এই ভয়ে জেলা প্রশাসন মুরুগানকে বইটি প্রত্যাহার করে নিতে বলে। মুরুগান রাজি হন এবং লিখে দেন, আর কখনও কিছু লিখবেন না।

ষোলো মাস পর মুক্তি হল মুরুগানের। মাদ্রাজ হাইকোর্ট এই বই সংক্রান্ত মামলায় বলেছেন, বইটির বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিচারকরা বলেছেন, “যেটা তাঁর পক্ষে সব চেয়ে উপযুক্ত কাজ তার জন্য লেখক পুনর্জীবিত হোন। তিনি লিখুন। মুরুগানের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তিনি তাঁর লেখার ক্যানভাস আরও বিস্তৃত করুন।”

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, “অনেক লেখাই সমাজের কোনও না কোনও অংশের পক্ষে রুচিকর নাও হতে পারে। তা বলে তাকে অশ্লীল, কদর্য, বিকৃতরুচিকর, কামাতুর ও অনৈতিক বলে দেগে দেওয়া যায় না। এই লেখার পিছনে লেখকের কোনও অশোভন উদ্দেশ্য বা ইচ্ছা ছিল না। বরং কারও কারও ব্যথিত হৃদয়ের বেদনা লাঘব করতে তিনি পিছিয়েই গিয়েছিলেন।” মুরুগানের উপন্যাসের সমস্ত তামিল কপি এবং তার ইংরিজি অনুনাদ ‘ওয়ান পার্ট উয়োম্যান’- এর সব কপি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য যে আবেদন করা হয়েছিল সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন