kerala floods
বন্যার গ্রাসে সবরিমালা মন্দির। ছবি: টুইটার
শ্রয়ণ সেন

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত কেরল, এই খবর তো অনেক দিন ধরেই শিরোনাম হচ্ছে। কিন্তু তাতেও বোধহয় পরিস্থিতির ভয়াবহতা খুব একটা বিচার করা যাচ্ছে না। কিছু তথ্য দিলে হয়তো বুঝতে পারবেন কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছে কেরলে।

ভারতে যে সব রাজ্যে সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়, তার মধ্যে অন্যতম কেরল। দক্ষিণপশ্চিম মৌসুমী বায়ু এই কেরল দিয়েই প্রথম যাত্রা শুরু করে। এমনিতেই বৃষ্টি বেশি হয় এই রাজ্যে। এ রাজ্যে এমন জায়গাও আছে যাকে দক্ষিণের চেরাপুঞ্জি বলা হয়। কিন্তু এর আগে এই ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়তে হয়নি রাজ্যকে। কেন?

১ জুন থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত কেরলে স্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ার কথা ১৬২০ মিলিমিটার। এই তথ্যটা যদি বুঝতে একটু অসবিধা হয় তা হলে এই প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে এই সময়কালে দক্ষিণবঙ্গে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ মাত্র ৭৪৯ মিলিমিটার। অর্থাৎ কেরলের অর্ধেকেরও কম। এ বার বলা যাক এই বর্ষায় এখনও পর্যন্ত কেরলে কত বৃষ্টি হয়েছে।

kerala floods
বন্যা কবলিত কোচি। নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে মানুষদের। ছবি: পিটিআই

১৬২০ মিলিমিটার যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ, সেখানে বৃষ্টি হয়েছে ২২২৬.৪ মিলিমিটার, অর্থাৎ স্বাভাবিকের থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি। এ বার এই পরিসংখ্যানটা দেখুন, দক্ষিণবঙ্গে ৭৪৯ মিলিমিটারের জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে ৬৫২ মিলিমিটার, স্বাভাবিকের থেকে যা ১৩ শতাংশ কম, কিন্তু তাতেও অল্প সময়ের জন্য হলেও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রামে। বেশ কয়েক বার প্লাবিত হয়েছে শহর কলকাতাও।

আরও পড়ুন বন্যাদুর্গত কেরলে ভোডাফোনের মানবিক উদ্যোগ

শুধু দক্ষিণবঙ্গ কেন, কিছু দিন আগে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল দিল্লিতে। যমুনার জল বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল পুরোনো যমুনা সেতু। অথচ দিল্লি এবং সংলগ্ন হরিয়ানায় এখনও পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে সাকুল্যে ২৪৯ মিলিমিটার। যদি ধরা হয় উত্তরাখণ্ডের প্রবল বৃষ্টির জল যমুনা হয়ে নেমে এসেছে দিল্লিতে, তা হলেও দেখা যাবে সে রাজ্যে বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের সমতুল্য।

আপাতত বর্ষার মরশুমের কেরলে কতটা বৃষ্টি হয়েছে তার হিসেব দেওয়া হল। এ বার দেওয়া যাক ৯ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত একটা হিসেব। এই সাত দিনে কেরলে বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের থেকে ২৫৭ শতাংশ বেশি। ভাবতে পারছেন!

২০১৫-এ চেন্নাইয়ে বন্যার কথা মনে আছে অনেকের। কী ভাবে জলের তলায় চলে গিয়েছিল একটা মেট্রো শহর। সে বার কিন্তু চেন্নাইয়ে বৃষ্টি হয়েছিল স্বাভাবিকের ১০২ শতাংশ বেশি। কেরলে বৃষ্টির পরিমাণ বিচার করে গত ২৬ বছরে প্রথম বার খুলে দেওয়া হয়েছে ইদুকি জলাধারের গেট। পার্বত্য শহর মুন্নারের কাছে ইদুকি জলাধার অঞ্চলে ১ জুন থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ার কথা ১৭০০ মিমি, কিন্তু এ বার সেখানে বৃষ্টির পরিমাণ ছুঁয়েছে ২৯৪৫ মিলিমিটার। তা হলেই বুঝে নিন কেরলের পরিস্থিতি।

কেরলের বন্যার ছবি দেখতে দেখতে মাঝেমধ্যেই মনে পড়ে যাচ্ছে ২০০০ সালের পশ্চিমবঙ্গের সেই ভয়াবহ বন্যার কথা। পশ্চিমবঙ্গের বন্যায় এক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সে দিক থেকে দেখতে গেলে কেরলে মৃতের সংখ্যা তার দশ শতাংশ, সবে একশো ছাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে থেকে সঠিক পরিকল্পনা নেওয়া ছিল বলে মৃতের সংখ্যা কিছুটা কম। কিন্তু কেরলের ছবি দেখলে আপনার চোখে জল আসবেই।

গ্রাম তো বটেই, কোচির মতো একটা মেট্রো শহর এখন বন্যার গ্রাসে। এই আবহে আরও বেশি সাহায্যের জন্য কেন্দ্রের কাছে করুণ আর্তি করেছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজায়ন। বিভিন্ন জেলায় কাজে নেমেছে সেনা, নৌসেনা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর জওয়ানরা।

বন্যা থেকে রাজ্যকে নতুন করে গড়ে তুলতে কোটি কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন বিজয়ন। এর জন্য সারা দেশবাসীর কাছে আর্থিক সাহায্যের প্রার্থনা করেছেন বিজয়ন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন