হায়দরাবাদ : এ কোন সমাজে বাস করছি? বংশ এগিয়ে নিয়ে যাবে কে? এই চিন্তা এখনও বহু পরিবারকে অশান্তি আর অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। পরিবারে ছেলে নয় মেয়ের জন্ম হলেই মেয়ে আর মেয়ের মায়ের প্রতি নেমে আসছে নিয়তির গ্রাস। এখনও খবরের শিরোনাম দখল করে নিচ্ছে এমন অনেক ঘটনাই। অন্য দিকে সরকার ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’-এর স্লোগান দিচ্ছে। এর মানে কি এই নয়, যে মেয়েদের আগাম অসহায়, অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে দেওয়া হচ্ছে? তাই তাদের বাঁচানোর জন্য ঢাকঢোল পেটানো হচ্ছে। তা ছাড়াও স্লোগানকে কাজে পরিণত করার জন্য ইতিবাচক ক’টা পদক্ষেপই বা করা হয়েছে তৃণমূল স্তরে, যেখানে এই হীন চিন্তাভাবনা রক্তের মনের মানসিকতার অণু-পরমাণুতে দানা বেঁধে আছে?

একটাও ছেলের জন্ম দিত পারেনি মনসা। এই গঞ্জনা সহ্য করতে করতে আর পেরে উঠল না রমেশ আর তার স্ত্রী মনসা। অবশেষে ঝিলের জলে ঝাঁপ দিয়ে বাঁচল ওঁরা চার জন। রমেশ আর মনসা সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছে তাঁদের ছয় মাস আর তিন বছরের দুই কন্যাসন্তান দেবশ্রী আর গীতশ্রীকেও।

পুলিশ জানিয়েছে, কিসারার পেড়াম্মা চেরেভুর জলে ডুবে আত্মহত্যা করেছেন ৩২ বছরের রমেশ আর তাঁর স্ত্রী ২৪ বছরের মনসা। হায়দরাবাদের ঘটকেশ্বরের কোনডাপুর গ্রামের বাসিন্দা এঁরা। মনসার বাবা রমেশের পরিবারের বিরদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশও রহস্যজনক মৃত্যুর মামলা করেছে।

মনসার ভাই জানিয়েছেন, কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার অপরাধে দিন রাত অশান্তি লেগেই থাকত তাঁদের পরিবারের লোকেদের সঙ্গে। বিশেষ করে রমেশের মার সঙ্গে। এমনকি এই কারণের জন্যই রমেশকে সম্পত্তির অধিকার থেকেও বঞ্চিত করেন রমেশের মা।

সোমবার বাড়িতে একটা আলোচনাসভা বসে। তার পরই রমেশ তাঁর স্ত্রী আর মেয়েদের নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তার পর তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষে মনসার ভাই খুঁজতে খুঁজতে ঝিলের ধারে এসে পড়েন। সেখানেই রমেশের মোটর সাইকেলটা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তখনই তিনি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তল্লাশি শুরু করে। অবশেষে জল থেকে চার জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here