গুয়াহাটি: নাগরিকত্ব বিলের (সংশোধনী) বিরোধিতা করে বিজেপিকে দেওয়া ভোট ‘ফিরিয়ে দেওয়ার’‌ দাবি করলেন জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গ। দু’‌বছর আগে এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপির হয়ে গান গেয়েছিলেন তিনি। তাঁর কণ্ঠ ব্যবহার করে বিজেপি যত ভোট পেয়েছে, সেগুলি সব ফেরত চাইলেন জুবিন। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালকে এ বিষয়ে চিঠিও লিখেছেন তিনি।

সোমবার নিজের ফেসবুকে গায়ক লেখেন, “‌প্রিয় সর্বানন্দ সোনওয়ালদা, আমি পাঁচ দিন আগে আপনাকে একটা চিঠি লিখেছিলাম। কিন্তু আপনি বোধহয় ব্যস্ততার কারণে উত্তর দেওয়ার সময় পাননি। আমার কন্ঠ ব্যবহার করে আপনারা যে ভোট পেয়েছেন তা কি আমি ফেরত পেতে পারি? পারিশ্রমিক ফিরিয়ে দিতে আপত্তি নেই আমার।”‌ দীর্ঘ পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, “লোকসভায় বিল পাশ হয়ে  যাওয়ার পরও মুখ্যমন্ত্রী তাতে আপত্তি করতে পারতেন। তারপর যা হত সেটা পরে দেখা যেত। আমি এখনও মাথা ঠান্ডা রাখতে চাই। আগামী এক সপ্তাহ অসমের বাইরে থাকব। ফিরে আসার আগে মুখ্যমন্ত্রী যদি কোনো ব্যবস্থা করেন তা হলে ভালো হয়। সেটা না হলে আমি নিজের মতো করে বিক্ষোভ দেখাব। কী করব সেটা আমি নিজেই এখনও জানি না।”‌

ফেসবুকে গায়কের অনুগামীর সংখ্যা সাড়ে আট লক্ষের কিছু বেশি। এই পোস্টের পর লাইক ও প্রতিক্রিয়ার সংখ্যা ক্রমশই বাড়তে থাতে। শুধু জুবিন নন, অসমের আরেক বিখ্যাত গায়ক পাপনও এই বিলের বিরোধিতা করেছেন। পাপন মনে করেন, এই বিল অসমের নাগরিকদের স্বার্থে আঘাত হানবে।

এ দিকে এই বিলকে কেন্দ্র করে অসম তথা উত্তরপূর্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি-বিরোধী বিক্ষোভ ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছে। আগামী দিনে এই বিল যে বিজেপির মাথাব্যথা আরও বাড়াবে সেটা বলাই বাহুল্য।

উল্লেখ্য, ১৯৫৫ সালে লাগু হওয়া নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে এই নতুন এই বিলটি নিয়ে আসা হয় ২০১৬ সালে। নতুন এই বিলটির মূল বিষয়ই হল, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর আগে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে এসে যে সব হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ এবং খ্রিস্টান ভারতে চলে এসেছেন তাঁদের ছ’বছরের মধ্যে স্থায়ী নাগরিকত্ব দেওয়া। ১৯৫৫-এর বিলে সময়সীমাটি ছিল ১২ বছর। নিজস্ব কাগজপত্র না থাকলেও এই নাগরিকত্ব পেতে কোনো সমস্যা হবে না। এই নিয়েই প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। বিরোধীদের দাবি, এই নাগরিকত্ব বিল (সংশোধনী) ভারতকে হিন্দু দেশে পরিণত করার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here