কলকাতা : খবরের কাগজের ঠোঙায় বা খবরের কাগজ মুড়ে কোনো খাবার দেওয়া চলবে না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কমিশনার অব ফুড সেফটিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডাস অথিরিটি অফ ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই)।

এফএসএসএআই বলেছে, খবরের কাগজের কালি থেকে খাদ্য দূষিত হতে পারে যা থেকে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের কাগজে যদি খাবার মুড়ে দেওয়া হয় তা হলে বৃদ্ধ, কিশোর-শিশু এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ করার স্বাভাবিক ক্ষমতা কম, তাদের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ থেকে ক্যান্সার হওয়াও আশ্চর্যের নয়। খবরের কাগজ ছাপানোর জন্য যে কালি ব্যবহার করা হয় তাতে থাকে বায়ো–অ্যাক্টিভ মেটিরিয়াল, ক্ষতিকর রঙ, রঞ্জক পদার্থ, অ্যাডিটিভ, প্রিজারভেটিভ সহ নানা রাসায়নিক পদার্থ, এমনকি রোগজীবাণুও যা মানবস্বাস্থ্যের পক্ষে রীতিমতো ক্ষতিকর। ফলে খবরের কাগজে, এমনকি রি-সাইকলড্‌ পেপার দিয়ে তৈরি কাগজ বা কার্ড বক্সে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে।

স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে তৈরি করা কোনো খাবারও যদি খবরের কাগজে মুড়ে দেওয়া হয়, তা হলেও শরীর অসুস্থ হতে পারে। ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় আবাসন মন্ত্রকের করা এক সমীক্ষা থেকে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন শহরের পথের ধারে অন্তত ১ কোটি খাবারের দোকান আছে। গত দু’ বছরে এই সংখ্যাটা অনেক বেড়েছে সন্দেহ নেই। এই সব দোকানের বেশির ভাগই খাবার মুড়ে দেওয়ার জন্য খবরের কাগজ ব্যবহার করে। কলকাতাও তার ব্যতিক্রম নয়। শহরের খাবারের স্টলগুলোতে রমরমিয়েই চলছে খবরের কাগজের ঠোঙার ব্যবহার। খবরের কাগজের উপর রেখেই চলছে দুপুরের লাঞ্চ। চাঁদনি, লালবাজার, ধর্মতলা, শ্যামবাজার, গড়িয়া, ডেকার্স লেন, নিউমার্কেট, লেনিন সরণি, রবীন্দ্র সদন চত্বর সহ শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণে, ফুটপাত থেকে অভিজাত দোকান সর্বত্রই চলছে খবরের কাগজের ব্যবহার। হুঁশ নেই দোকানদার থেকে সাধারণ ক্রেতার। এই কাগজের ঠোঙায় চলছে ঝালমুড়ি, ডিমটোস্ট, এগরোল, মুড়ি, চপ, চাউমিন, রুটি, মিষ্টি, ফল, ভেলপুরি খাওয়া। তালিকা এখানেই শেষ নয়।

news-1চাঁদনি থেকে কাগজের ঠোঙায় খাবার নিয়ে যাচ্ছিলেন ঢাকুরিয়ার বাসিন্দা অচেনা দে। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের এই নির্দেশিকাকে অবশ্যই আমরা স্বাগত জানাব। খুব শীঘ্রই এই নির্দেশিকা বাস্তবে রূপ দেওয়া দরকার। এই কাগজ ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হলে আমরা আর ব্যবহার করব না। তবে ফুটপাতের সাধারণ দোকানদারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও করা দরকার।”

রিষড়ার বাসিন্দা শিবশঙ্কর রায় মনে করেন, এ ব্যাপারে রাজ্যের সচেতন হওয়া দরকার। এ বিষয়ে টিভি, সংবাদমাধ্যম, রেডিও, সোশ্যাল মিডিয়া সহ একাধিক জায়গায় প্রচার চালানো উচিত। তা হলেই এই কাগজের ব্যবহার কমবে।   

এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,  “কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা হাতে পেয়েছি। কিন্তু এত দ্রুত এই কাগজ বন্ধ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য কিছুটা সময় দরকার। তবে খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে প্রচার শুরু হবে রাজ্যে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ালেই এই কাগজের ব্যবহার বন্ধ হবে। ফুড ইনস্পেক্টরদের এ বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। জেলাশাসক ও খাদ্য দফতরের আধিকারিকদের এই বিষয়ে আরও সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া লিখিত নির্দেশিকাও পাঠানো হয়েছে।”

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে,  এ বিষয়ে দফতরের পক্ষ থেকে ১০টি জেলা ও শহরে একটি সমীক্ষা করা হয়। সেই সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, খুব সহজেই খবরের কাগজের কালি গরম খাবারের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। আর সেটা পেটে যাওয়ার ফলে একাধিক রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। পেটের সমস্যা সব থেকে বেশি দেখা দিচ্ছে। চর্ম রোগ, চোখের সমস্যা, মাথার চুলের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক আলসারের মতো মারাত্মক রোগের সৃষ্টি হচ্ছে।    

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here