নয়াদিল্লি: অনেক চেষ্টা হয়েছিল বিভিন্ন তরফ থেকে। কিন্তু জল ঢেলে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিল, পোঙ্গালের আগে জল্লিকট্টু নিয়ে নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব নয়। আর এডিএমকে সরকার যথেষ্ট আগে থেকে এ ব্যাপারে তৎপর হয়নি, এই অভিযোগে ডিএমকে শুক্রবার সারা তামিলনাড়ু অচল করার ডাক দিল।   

পোঙ্গাল তামিলনাড়ুর উৎসব। নতুন ফসল ওঠার সময় চার দিন ধরে এই উৎসব চলে, যার সূত্রপাত হয় মকর সংক্রান্তিতে, এ বার যেটা পড়েছে আগামী শনিবার। এই পোঙ্গালের অন্যতম অঙ্গ হল জল্লিকট্টু তথা মোষকে জড়িয়ে ধরে বাগে আনা। ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ থেকে জানা যায়, অন্তত আড়াই হাজার বছর ধরে চলে আসছে এই প্রথা। আগে যেটা ছিল নিতান্তই প্রথা, পরে সেটাই হয়ে দাঁড়ায় প্রতিযোগিতা। পশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধের দাবিতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে পশুপ্রেমী সংস্থাগুলি এই জল্লিকট্টু নিষিদ্ধ করার দাবি জানাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ভারতের পশু কল্যাণ পর্ষদ জল্লিকট্টু নিষিদ্ধ করে নির্দেশ দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায়। ২০১৪ সালের ৭ মে সুপ্রিম কোর্ট জল্লিকট্টু নিষিদ্ধ করে দেয়। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, এই প্রথায় পশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখানো হয়। কারণ এই পশুগুলি জন্মগত ভাবে এই খেলায় সিদ্ধ নয়। তাদের কৃত্রিম ভাবে প্রশিক্ষিত করা হয়।

জল্লিকট্টু তামিল জাতির ঐতিহ্য, বহু প্রাচীন প্রথা — এই যুক্তি দেখিয়ে এই প্রথা ফের চালু করতে এডিএমকে, ডিএমকে-সহ বিভিন্ন দল, গোষ্ঠী, এমনকি কমল হাসনের মতো সেলিব্রেটিও উঠেপড়ে লাগেন। এমনকি রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ মিছিল বের করে ছাত্ররা। এডিএমকে-র সুপ্রিমো শশিকলা, মুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভম কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ করেন অর্ডিন্যান্স জারি করে জল্লিকট্টু ফের চালু করতে। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দেয়, এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এ ব্যাপারে যে হেতু সুপ্রিম কোর্টের রায় বহাল রয়েছে, সে হেতু সুপ্রিম কোর্টই পারে তাদের রায় পুনর্বিবেচনা করতে। এরই ফাঁকে অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকার জল্লিকট্টু নিষিদ্ধ করার জন্য পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেয়।

সুপ্রিম কোর্টের আগের রায় পুনর্বিবেচনা করার জন্য আবেদন জমা পরে। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিচারপতি দীপক মিশ্র ও বিচারপতি আর ভানুমতীর বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, শনিবারের আগে এ বিষয়ে রায় দেওয়া সম্ভব নয়। যার মোদ্দা অর্থ হল, এ বারেও পোঙ্গালে জল্লিকট্টু হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত বছরও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ২০১৪ সালের রায় পুনর্বিবেচনা করার জন্য শীর্ষ আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু শীর্ষ আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here