aadhaar

নয়াদিল্লি: ২৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আধার নম্বর থাকলে তবেই মিড ডে মিল পাবে পড়ুয়ারা। কিন্তু নতুন নিয়ম শুধু মিড ডে মিল প্রকল্পের জন্য নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের পাঁচটি মন্ত্রকের ১১টি প্রকল্পের জন্য আধার নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক করতে চলেছে সরকার। প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও চালু হচ্ছে এই নিয়ম। যাদের এখনও আধার কার্ড নেই, প্রকল্পের আওতায় আসার জন্য ২০১৭-র ৩১ মার্চের মধ্যে আবেদন করতে হবে আধারের জন্য। কিছু ক্ষেত্রে আবেদনের সময়সীমা ৩১ মার্চ, ২০১৮।

অথচ, সুপ্রিম কোর্টের ২০১৫-র নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও সরকারি প্রকল্পেই আধার নম্বর বাধ্যতামুলক নয়। বরং কিছু সরকারি কর্মসূচির ক্ষেত্রে আধার কার্ডকে পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। 

আরও পড়ুন; ‘মিড ডে মিল-এর জন্য জরুরি আধার নম্বর’, ঘোষণা কেন্দ্রের

কেন্দ্রের যে যে মন্ত্রকের অধীনে যে যে প্রকল্পের জন্য আধার নম্বর থাকা বাধ্যতামুলক করা হচ্ছে, তার একটি তালিকা তৈরি হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে ‘সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন’, ‘মানব সম্পদ উন্নয়ন’, ‘স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ’, ‘শ্রম এবং কর্ম নিয়োগ’ এবং ‘নারী এবং শিশু কল্যাণ’- এই পাঁচটি মন্ত্রক। এই পাঁচটি মন্ত্রকের আওতায় পড়ে, এমন ১১টি সরকারি প্রকল্পে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে আধার কার্ড। এর মধ্যে পড়ছে প্রাথমিক শিক্ষার অধিকারও। অথচ ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৪ বছরের যে কোনো শিশুকে বিনা শর্তে শিক্ষা প্রদানে রাষ্ট্র দায়বদ্ধ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারি প্রকল্প কাদের জন্য? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর জন্যই। ৬ থেকে ১৪ বছরের শিশু, নারী পাচার থেকে কোনো রকমে উদ্ধার হওয়া মহিলা, লিখতে পড়তে না জানা প্রাপ্তবয়স্ক, ভারতের মতো ১৩০ কোটির দেশে এদের সবার রাতারাতি বৈধ আধার নম্বর পাওয়া কি আদৌ সম্ভব?

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন