নয়াদিল্লি: কুলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ফল হবে মারাত্মক, ভুগতে হবে পাকিস্তানকে। এ ভাবেই চাঁচাছোলা ভাষায় পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, কুলভূষণের ন্যায়বিচারের জন্য ভারত ‘অন্য পন্থাও নিতে পারে’।

সাংসদের উভয় কক্ষেই মঙ্গলবার সুষমা বলেন, “কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড যদি কার্যকর করা হয় তা হলে পাকিস্তানকে এর ফল ভুগতে হবে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে ব্যাপক প্রভাব পড়বে, সেই ব্যাপারে আমি পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিলাম।”

সেই সঙ্গে সুষমা যোগ করেন, “যাদবের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কাজকর্মের কোনো অভিযোগ নেই। ভারতকে কলঙ্কিত করতেই ছক কষেছে পাকিস্তান। এই মৃত্যুদণ্ড যদি কার্যকর হয়, তা হলে ভারত এটাকে পাকিস্তানের পূর্ব-পরিকল্পিত হত্যা হিসেবেই দেখবে।”

রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদের পরামর্শের জবাবে সুষমা বলেন, কুলভূষণের জন্য পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে ভালো আইনজীবীর ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির কাছেও দরবার করা হবে। তাঁর কথায়, “কুলভূষণের জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা তাই করব।”

বিদেশমন্ত্রীর মতে, ব্যবসার কাজে ইরানে ছিলেন কুলভূষণ। সেখান থেকে অপহরণ করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সুষমার অভিযোগ, “কুলভূষণের সঙ্গে কোনো মতেই ভারতীয় দূতাবাসকে যোগাযোগ করতে দেয়নি পাকিস্তান।”

সুষমার আগে এ দিন পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করে কুলভূষণের ন্যায়বিচারের জন্য যতটা সম্ভব করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের উদ্দেশে তাঁর আক্রমণ, “ন্যায়বিচারের সমস্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান।”

দলমত নির্বিশেষে সব সাংসদই এ দিন কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ডের তীব্র নিন্দা করেন।

কে এই কুলভূষণ যাদব?

মহারাষ্ট্র নিবাসী বছর ৪৬-এর কুলভূষণ যাদব, ভারতীয় নৌবাহিনীতে প্রাক্তন অফিসার ছিলেন। তাঁর বাবা সুধীর যাদব প্রাক্তন এসিপি। পরিবার সূত্রের খবর, বারো বছর নৌবাহিনীতে থাকার পর, সেখান থেকে অবসর নিয়ে ব্যক্তিগত ব্যবসাতেই মন দেন কুলভূষণ। ইরানের চাবাহার বন্দরে তাঁর ব্যবসা ছিল।

পাকিস্তানের দাবি গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগে গত বছর ৩ মার্চ বালোচিস্তান থেকে গ্রেফতার করা হয় কুলভূষণ যাদব, ওরফে হুসেন মুবারক পটেলকে। তাদের দাবি ‘র’-এর হয়ে কাজ করার কথা স্বীকার করেছে কুলভূষণ। অন্য দিকে ভারতের দাবি ইরান থেকে অপহৃত করা হয় কুলভূষণকে। গত তেরো মাসে তেরো বার চেষ্টা করেও কুলভূষণের সঙ্গে দূতাবাসিক যোগাযোগ করতে পারেনি ভারত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here