নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: “ভারতীয় এজেন্ট রবিশংকরের তথাকথিত শান্তি আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না” – ‘আর্ট অব লিভিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা ধর্মগুরু শ্রীশ্রী রবিশংকরকে এ ভাবেই তাচ্ছিল্য করেছেন আলফা (স্বাধীন)-এর প্রধান পরেশ বরুয়া।

গুয়াহাটির ‘অসমীয়া প্রতিদিন’-এ প্রকাশিত শ্রীশ্রী রবিশংকরের একটি সাক্ষাত্‍কারভিত্তিক প্রতিবেদনের নিয়ে প্রতিক্রয়া জানাতে গিয়ে পরেশ আরও বলেছেন, “আসলে রবিশংকরের তথাকথিত শান্তি আলোচনার জালে পা না দেওয়ার জন্য তিনি হতাশায় ভুগছেন। মূলত তাঁর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য সফল হয়নি, তাই এ বার চিনের চাপে আলফা শান্তি আলোচনায় আসতে পারছে না বলে আবোলতাবোল বকছেন। মূল ইস্যু থেকে সকলের দৃষ্টি সরাতেই রবিশংকর এ ধরনের বিভ্রান্তিকর উড়ো মনগড়া বক্তব্য পেশ করছেন।”

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ওই সাক্ষাত্‍কারে আধ্যাত্মিক গুরু শ্রীশ্রী রবিশংকর বলেছিলেন, “শান্তি আলোচনার জন্য আলফা (স্বাধীন)-এর সেনাধ্যক্ষ পরেশ বরুয়া আগ্রহী। তবে এ ক্ষেত্রে বিশাল প্রাচীর তৈরি করে রেখেছ প্রতিবেশী চিন।” ওই সাক্ষাত্‍কারে তিনি বলেন, “পরেশ বরুয়ার সঙ্গে বেশ কয়েক বার আমার ফোনে কথা হয়েছে। তিনি এখন ভীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। শেষ বার যখন পরেশের সঙ্গে কথা হষ়েছিল তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন, গুরুজি, আপনিই এখন একমাত্র ব্যক্তি যিনি আমাকে বুঝতে পেরেছেন।” রবিশংকর আরও বলেছেন, “এটা ঠিক, চিন অর্থের জোগান দিতে পারবে, অস্ত্রশস্ত্র দিতে পারবে, কিন্তু সম্মানজনক মৃত্যু দিতে পারবে না। পরেশ বরুয়ার বয়স হয়েছে, আর কত দিন এ ভাবে ঘোরাফেরা করবেন। এখন সব কিছুতেই পরিবর্তন এসেছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁকে এ বার তাঁর ভাবধারায় পরিবর্তন আনা উচিত। কেবল সার্বভৌমত্ব দাবি করলেই হবে না, কে সার্বভৌমত্বের দাবি করে তা-ও দেখতে হবে। আমাদের একটি নির্বাচিত সরকার আছে। তাই আলোচনার জন্য এগিয়ে আসলে বীরের সম্মান পাবেন তিনি…।”

এই সাক্ষাত্‍কারের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়েই শ্রীশ্রী রবিশংকরকে ‘ভারতীয় এজেন্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন পরেশ বরুয়া। আলফা (স্বাধীন)-এর সেনাধ্যক্ষের সাফ বক্তব্য, “আলফা কারও কথায় চলে না, কারও চাপের কাছে নতি স্বীকারও করে না। অতএব চিনের চাপে পড়ে পরেশ বরুয়া শান্তি আলোচনায় আসছেন না তা ঠিক নয়। আলফা-স্বাধীন মুক্তিকামী সংগঠন এবং নিজের মহৎ উদ্দেশ্য বিবেচনা অনুযায়ীই পরিচালিত হয়।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here