মেডিক্যালের এমারজেন্সিতে বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকলেন মালদহ থেকে আসা রোগী

0
162

কলকাতা: স্বাস্থ্য পরিষেবায় নানা অনিয়মের জন্য রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এ বার খোদ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধেই বিনা চিকিৎসায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমারজেন্সিতে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠল। রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালে এমারজেন্সিতে ২৪ ঘণ্টা ১ জন সিনিয়ার ডাক্তার থাকার কথা। তা হলে প্রশ্ন, সোমবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মতো এত বড়ো একটা হাসপাতালের এমারজেন্সি কী ভাবে ফাঁকা থাকল।  

এখন এমারজেন্সিতে বড়ো ডাক্তার নেই। বড়ো ডাক্তার এলেই তবেই তোমার বাবার চিকিৎসা শুরু হবে। এই জবাব শুনতে হল মালদহ থেকে  গুরুতর অসুস্থ বাবাকে নিয়ে আসা সুশান্ত মণ্ডলকে।

রসিক মন্ডল। ৬৫ বছর। বাড়ি মালদহ জেলায়।  বাড়িতে পড়ে গিয়ে কোমর ও পা ভেঙে গিয়েছে। কোমরের জয়েন্ট ছিঁড়ে যায়। ভর্তি করা হয়েছিল মালদহ মেডিক্যাল কলেজে। অবস্থার অবনতি হচ্ছে দেখে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ রসিকবাবুকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। ৬৫ বছরের বৃদ্ধ মেডিক্যাল কলেজের এমারজেন্সিতে শুয়ে শুয়ে কাতরাচ্ছেন। সেই সময় এমারজেন্সিতে ছিলেন শুধু জুনিয়ার ডাক্তার। প্রথমে প্রেসক্রিপশন লিখে বলে দেওয়া হল, পাশের ঘর থেকে আপনার বাবার এক্সরে করিয়ে নিয়ে আনুন। এমারজেন্সি থেকে একটি ট্রলি পর্যন্ত দেওয়া হল না। সুশান্ত বাবাকে নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে গেলেন এক্সরে রুমে। কিন্তু এক্সরে বিভাগ থেকে বলা হল এখন ২টো বেজে গিয়েছে। আর এক্সরে হবে না।  সুশান্ত তাঁর বাবাকে নিয়ে এমারজেন্সিতে ফিরে এলেন। তখন জুনিয়ার ডাক্তারা বলেন, এখন বড়ো ডাক্তার নেই। তাই চিকিৎসা হবে না। এই ভাবে এমারজেন্সিতে ৩ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে বিনা চিকিৎসায় পড়ে রইলেন রসিক মণ্ডল।

সুশান্ত মন্ডল বলেন, “এমারজেন্সিতে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে আছি। বলা হয়েছে, বড়ো ডাক্তারবাবু এলে তবেই চিকিৎসা শুরু হবে। বাবার প্রথমিক চিকিৎসাটুকু পর্যন্ত শুরু হয়নি। এ দিকে পা ও কোমরের ব্যথার জন্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে বাবা।”

এই গাফিলতির বিষয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার শিখা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো কিছু বলতে চাননি। শুধু বলেন, “পরিবারের লোক আগে লিখিত অভিযোগ জানাক। তার পর ভেবে দেখব।”

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here