খবর অনলাইন: ‘ব্রেক্সিট’ নিয়ে জল ক্রমশ ঘোলা হচ্ছে গ্রেট ব্রিটেনে। স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার দাবি এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে ‘ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড’-এর দাবি ওঠার পর পুরো গ্রেট ব্রিটেনেই ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা, না-থাকা নিয়ে দ্বিতীয় বার গণভোট করার দাবি উঠেছে। অন্য দিকে রাজধানী লন্ডনকে স্বাধীন করার ডাক দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় বার গণভোট করার দাবিতে শুরু হয়ে গিয়েছে সই সংগ্রহ অভিযান। ইতিমধ্যেই ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ফের গণভোটের আবেদনে সই করেছেন। স্বাক্ষরকারীদের দাবি প্রথম বারের গণভোট বাতিল করা হোক। এ দিকে লন্ডনকে স্বাধীন করার দাবিতেও চলছে সই সংগ্রহ। এবং মেয়র সাদিক খানের কাছে করা ওই আবেদনে ইতিমধ্যে ১ লক্ষেরও বেশি মানুষ সই করেছেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন আগে বলেছিলেন দ্বিতীয় বার গণভোট হবে না। টটেনহ্যামের লেবার এমপি ডেভিড ল্যামি টুইট করে বলেছেন, পার্লামেন্টে ভোটের মাধ্যমে জনগণ এই পাগলামি বন্ধ করতে পারেন। ব্রিটেন ‘ব্রেক্সিট’ নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় কি না তা ঠিক করতে আগামী সপ্তাহে হাউস অব কমন্সে ভোট নেওয়া উচিত বলে মনে করেন ল্যামি।

কোন যুক্তিতে বাতিল করা যেতে পারে প্রথম বারের গণভোট তা-ও বাতলে দিয়েছেন স্বাক্ষরকারীরা। এ ব্যাপারে উইলিয়াম অলিভার হেলি নামে এক ব্যক্তি পেটিশনস ওয়েবসাইট খুলেছেন। তাতে বলা হয়েছে, “আমরা, নিম্ন স্বাক্ষরকারীরা মাননীয় সরকারের কাছে একটি নিয়ম প্রণয়নের আবেদন জানাচ্ছি যে যেখানে থাকার পক্ষে বা ছেড়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট ৬০%-এর কম এবং যেখানে মোট প্রদত্ত ভোট ৭৫%-এর কম, সেখানে আরেক বার গণভোট হওয়া উচিত।” উল্লেখ্য বৃহস্পতিবারের গণভোটে ভোট পড়েছিল ৭২.১%, হেলির প্রস্তাবিত ৭৫%-এর কম। যদিও গত সাধারণ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৬৬.১%।

লন্ডনের দাবি

ইতিমধ্যে লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের উদ্দেশে আরেকটি পৃথক আবেদনে রাজধানী শহরের ১ লক্ষেরও বেশি অধিবাসী ব্রিটেনের সঙ্গে বিচ্ছেদ চূড়ান্ত করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। মেয়রের কাছে আবেদনে তাঁরা বলেছেন, লন্ডনকে স্বাধীন ঘোষণা করা হোক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হোক। শহরের ৩৩টি বরোতে গড়ে ৫৯.৯% ভোটার ই ইউ-তে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছে। কয়েকটি বরোতে তো থাকার পক্ষে ভোটের হার ৭০%-এরও বেশি।

জেমস ও’ম্যালির তৈরি ওই পাতায় বলা হয়েছে, “লন্ডন একটি আন্তর্জাতিক শহর। আমরা ইউরোপের হৃদয়ে থাকতে চাই। দেশের অবশিষ্টাংশ নারাজ হোক, এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। সরকারি ভাবে আমরা বিচ্ছেদ ঘোষণা করি। মহাদেশের বন্ধুদের নিয়ে আমরা নতুন ভাবে শুরু করি।”

ছবি: সৌজন্যে বিবিসি নিউজ

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here