নয়াদিল্লি: পর পর ট্রেন দুর্ঘটনা। এ বার জগদলপুর-ভুবনেশ্বর হিরাখণ্ড এক্সপ্রেস। এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

একটা করে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে, আর নানা রকম তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করছে রেল মন্ত্রক। এর আগে বলা হয়েছিল, শিয়ালদহ-অজমের এক্সপ্রেস এবং পটনা-ইনদওর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার পিছনে আইএসআইয়ের হাত আছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে। এ বার হিরাখণ্ড এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার পর রেল সূত্রে বলা হচ্ছে, জায়গাটা নকশাল অধ্যুষিত। তাই এই দুর্ঘটনায় নকশালদের হাত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু রেল যা-ই বলুক সাধারণ যাত্রীরা মনে করেন, সুরক্ষা নিয়ে রেলের গাফিলতির কারণেই এই সব দুর্ঘটনা ঘটছে। কুনেরু স্টেশনের কাছে হিরাখণ্ড এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় জনসাধারণ এবং রাজনৈতিক দলগুলি কেন্দ্রকেই দুষছেন।

এই দুর্ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনের কথার প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে ওড়িশার শাসকদল বিজেডি-র মুখপাত্র প্রতাপ দেবের মুখে। তিনি বলেন, “মৃত যাত্রীদের জন্য গভীর সমবেদনা জানিয়েও এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য আমরা রেল মন্ত্রককেই দায়ী করছি। কেন্দ্র বূলেট ট্রেন চালানোর স্বপ্ন দেখে, রেলে অত্যাধুনিক সব ব্যবস্থা চালু করার কথা গর্ব করে বলে, কিন্তু সাধারণ যাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিতই থেকে যায়। এক বছরে ট্রেন দুর্ঘটনায় দেশে ৪০০ জনেরও বেশি যাত্রী মারা গেলেন।” প্রতাপবাবুর দাবি, আসন্ন রেল বাজেটে যাত্রীসুরক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

একই কথা বলেছেন ওড়িশা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রসাদ হরিচন্দন। তিনি বলেন, “দেশে ট্রেন দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারটা বেশ উদ্বেগের। কেন্দ্রের উচিত, যাত্রী সুরক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা।”

ইতিমধ্যে জনগণও তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁরা লিখছেন, “আমরা ট্রেনে নিরাপদে ভ্রমণ করতে চাই, বিলাসিতা চাই না। রেলের উচিত সিগন্যালিং ব্যবস্থার উন্নতি করা, রেললাইন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা। নতুন ট্রেন যেমন চালানো দরকার, বা যোগাযোগ আরও ভালো করা যেমন দরকার, তেমনই সমান গুরুত্বপূর্ণ হল সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here