মুম্বই ও ধরমশালা : প্রায় প্রতি দিনের রোজনামচা মোদী-রাহুল তরজা। একে অপরের দিকে গোলা বর্ষণ করেই চলেছেন। শনিবার হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালা থেকে তোপ দাগলেন রাহুল। উল্টো দিকে এ দিনই মুম্বইয়ের রায়গড় থেকে রাহুলের উদ্দেশে পাল্টা গোলা ছুড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সিকিউরিটি মার্কেটের নতুন একটি ক্যাম্পাস উদ্বোধনে এসে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তাতেই নোট বাতিল সিদ্ধান্ত নিয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেন, দেশের মঙ্গলের জন্য এমন সিদ্ধান্ত।  এক প্রজন্মের মধ্যেই দেশকে উন্নত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের সুফল পাওয়া যাবে একটা সময় পরে। ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত। রাজনীতির স্বার্থে ছোটোখাটো পদক্ষেপে নাম কেনার চেষ্টা কখনোই করা হবে না। তিনি আরও বলেন, কৃষিতে নতুন নতুন কাজে বিনিয়োগের জন্য দেশের শেয়ার বাজারে মূলধনের পরিমাণ বাড়ানোর দরকার। আর তার জন্য চাই উপযুক্ত বণ্টন, সকলের নির্দিষ্ট সময়ে কর জমা। সরকার সব সময় এই সব ক্ষেত্রে উৎসাহ দেবে। ভাষণে তিনি আরও বলেন, পণ্য ও পরিষেবা কর এসে গেলে পরিস্থিতি আরও অনেক বদলে যাবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের পর দুর্নীতিবাজদের কষ্ট অনেক বাড়বে, আর সৎ মানুষদের কষ্ট কমবে। 

যখন প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা আর নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বপক্ষে যুক্তি খাড়া করতে ব্যস্ত ঠিক তখন তাঁকে বার বার আক্রমণ করেছেন কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী। নোট বাতিল সিদ্ধান্ত ভারতের নগদ অর্থনীতিতে আগুনের বোমা নিক্ষেপ বলে একের পর এক তোপ দেগেছেন রাহুল।

ধর্মশালার মঞ্চ থেকে এ দিন রাহুল বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে নোট বাতিল করা হয়নি। মানুষের দুর্ভোগ বাড়াতে নোট বাতিল করা হয়েছে। আড়াই বছর ধরে শুধু গরিব মানুষকে আক্রমণ করছে মোদী সরকার। এর প্রভাব পড়ছে দেশের কৃষি আর পর্যটনের ওপর। সিমলা আর ধরমশালার মতো পর্যটন কেন্দ্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে এই সরকার। হিমাচলপ্রদেশের উদ্যানপালন, কৃষি, পর্যটনকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এই সরকার। তিনি বলেন, সংসদকে এড়িয়ে নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে সরকার। রাহুল দাবি করেন, দেশের মাত্র ১% ধনীর হাতে রয়েছে দেশের ৬০% সম্পদ। দেশের ৯৯%-এর হাতে রয়েছে সাদা ধন।  আদিবাসীদের জমি কেড়ে নিয়েছে এই সরকার। ভারতবর্ষকে ভাগ করার চেষ্টা করছে এই সরকার। দেশের ৫০টি পরিবারের হাতে দেশের সব থেকে বেশি সম্পদ। এঁরাই বিমানে করে মোদীর সঙ্গে বিদেশে যান। রাহুল প্রধানমন্ত্রীর দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন। জানতে চান, মাল্যকে কেন দেশে ফেরানো গেল না? সুইস ব্যাঙ্ক কালো টকার মালিকদের যে তালিকা দিয়েছে, সেই তালিকা কেন দেশের সামনে আনা হচ্ছে না? রাহুল আরও দাবি করেন, ৯৪% কালোটাকা, সোনা মজুত রয়েছে বিদেশের ব্যাঙ্কে। তাই নিয়ে মুখ খুলছেন না মোদী। তিনি মিথ্যা কথা বলছেন।

তবে রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। এত সত্ত্বেও কেবল জবাব আর পাল্টা জবাবে আটকে আছে সমস্যা। তার কোনো সুরাহা এখনও অবধি হয়নি। হয়রানি কবে শেষ হয় সে দিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here