hpsenহরপ্রসাদ সেন :

আজ রবিবার বইমেলার শেষ দিন। ভিড় উপচে পড়ছে প্রগতি ময়দানে। দর্শকসংখ্যা আর বই বিক্রির হিসাবে রেকর্ড করে ফেলেছে এ বারের বইমেলা।

দিল্লি বিশ্ব পুস্তকমেলা শুরু হয়েছে জানুয়ারির ৭ তারিখে। এরই মধ্যে অনেক পরিসংখ্যানকে পিছনে ফেলে দিয়েছে এ বারের বইমেলা। বিশ্ব বাণিজ্যমেলা তথা ওয়ার্ল্ড ট্রেড ফেয়ারের পর এত বড়ো মেলা সাধারণত আর অনুষ্ঠিত হয় না। যদিও অন্য ধরনের কিছু মেলা প্রগতি ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়, তবে তার সংখ্যা খুবই নগন্য।

book-5কয়েক বছর ধরে এ মেলার প্রতি দিল্লিবাসীর আগ্রহ বেশ বেড়েছে। পরিবারের সকলকে নিয়ে বই দেখা বা বই কেনার আনন্দই আলাদা। প্রচণ্ড শীতের কামড় উপেক্ষা করে প্রতি দিন হাজার হাজার বইভক্তের ভিড় শুধু আয়োজকদেরই উৎসাহিত করেনি, সঙ্গে সঙ্গে এটাও প্রমাণ করেছে দিল্লির শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা বইয়ের প্রতি উদাসীন নন, বরং তাঁরা ভীষণ ভাবে আগ্রহী।ইলেকট্রনিক মাধ্যম এখনও তাদের সম্পূর্ণ গ্রাস করেনি।

book-2এ বারের বিশ্ব বইমেলা বইভক্তদের উপস্থিতি এবং বই বিক্রির হিসাবে বেশ কয়েক বছরের রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে। আয়োজক ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের (এনবিটি)মি. সমরেশ জানালেন, ছুটির দিনগুলোতে দর্শকদের সংখ্যা লক্ষাধিক। কী রকম বই বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে উনি বললেন, বিক্রিতেও আমরা রেকর্ড করে ফেলেছি। তবে সঠিক হিসেব জানতে একটু সময় লাগবে। জানা গেল, এনবিটি  একাই দশ লক্ষ টাকার বেশি বই করে ফেলেছে। এর প্রমাণ পেলাম দিল্লির বাঙালি প্রকাশক ‘নিয়োগী বুকস’-এর দেবাশিস নন্দীর কথায়। জানালেন, গত সাত-আট বছরে এ বারের মতো বিক্রি কখনও হয়নি। মেলা ঘুরেও তা বোঝা গেল।

book-3প্রতিটি স্টলে বেশ ভিড় এবং কেনাকাটাও ভালোই হচ্ছে। বিমুদ্রাকরণের প্রভাবও যে মেলায় তেমন পড়েনি, তা-ও বুঝতে পারলাম। বহু স্টলে কার্ড-এ কেনাকাটা চলছে। তা ছাড়া পেটিএম-এর মতো সংস্থারাও মেলায় হাজির।

book-4ন’ দিন ধরে চলেছে বইমেলা। ‘অথরস’ কর্নার’-এ রোজই কিছু না কিছু অনুষ্ঠান হচ্ছে। হয় সাহিত্যিক-লেখকদের বই প্রকাশ, না হয় আলোচনাসভা কিংবা কোনো বিষয় নিয়ে বিশিষ্টজনের বক্তৃতা অথবা ভারতের কোনো না কোনো রাজ্যের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সব মিলিয়ে এ বারের দিল্লি বইমেলা শুধু সার্থক বললে কম বলা হয়, বইপ্রেমীদের কাছে একটা বড়ো পাওনা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here