সানি চক্রবর্তী:

ক্রীড়াজগতের সব থেকে সেরা প্রত্যাবর্তন ঠিক কোনটা? প্রশ্নটা উঠলেই ভেসে আসে বেশ কিছু উদাহরণ, সঙ্গে তর্ক বাড়ানোর মতো ব্যক্তিত্ব বা দল। সেরা ঠিক কোনটা, সেই বিতর্কে না গিয়েই বলতে হয় টেনিস সার্কিটে অন্যতম সেরা উদাহরণ রজার ফেডেরার। মিয়ামি ওপেনের শেষে পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চে সেই কথাটাই বললেন স্বয়ং রাফায়েল নাদাল। সরাসরি বললেন, “অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন। ছয় মাস কোর্টের বাইরে থাকার পরে যে ভাবে রজার ফিরে এসেছে, তা এক কথায় দুর্ধর্ষ।”

পড়ন্ত ফর্ম। একের পর এক প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাওয়া। দীর্ঘদিনের অপ্রাপ্তির মাঝে জকোভিচ-মারে দ্বৈরথে বেশ কিছুটা পিছনের সারিতে চলে যাওয়া। সর্বোপরি সব থেকে বড়ো অস্ত্র ফিটনেসে ফাটল। হাঁটুর চোটে প্রায় ৬ মাসের জন্য রজার ফেডেরার যখন গত বছর ছিটকে গিয়েছিলেন, তাতে কার্যত ট্রফি জেতার দাবিদার ভাবাটা বন্ধ করে দিয়েছিলেন অনেকেই। সেখান থেকে ফিরে এসে রেকর্ড ১৮তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম। তার পরে ইন্ডিয়ান ওয়েলস ও এ দিনের মিয়ামি ওপেন জেতা। প্রত্যাবর্তনের বৃত্তটা সম্পূর্ণ করে ফেললেন সুইস মায়েস্ট্রো, বলছেন অনেকেই। ছ’ মাস আগে যাঁর পেশাদারি কেরিয়ার ঘিরে ছিল সংশয়, এ দিনের পরে তিনিই বাধ্য করছেন লোককে ভাবতে, এক নম্বর স্থানটা ধরে রাখার জন্য এ বার কড়া বেগ পেতে হবে নোভাক জকোভিচকে।


এই নিয়ে টানা ৫ বার মিয়ামি ওপেনের ফাইনালে হারলেন নাদাল। অন্য দিকে, ১১ বছর বাদে মিয়ামি ওপেনের শিরোপা তৃতীয় বারের জন্য জিতলেন ফেডেরার। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নায়ক কঠিন সময়ে তাঁর টিমের পাশে থাকটাকে যেমন নিজের শক্তি হিসেবে জানালেন, তেমনই করতে ভুললেন না নাদালের প্রত্যাবর্তনের প্রশংসা। বলে দিলেন, “নাদালও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেছে। আর এর পর আসছে সুরকির মাটিতে লড়াই। ও যে রকম ছন্দে রয়েছে, তাতে প্রতিপক্ষকে ছিঁড়ে খাবে।”


চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাফায়েল নাদালকে স্ট্রেট সেটে ৬-৩, ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে দিয়ে কেরিয়ারের ২৬তম এটিপি ওয়ার্ল্ড টুর ট্রফিটা জিতলেন রজার ফেডেরার। নিষ্প্রাণ এই তথ্যকে আবেগের পরতে মুড়ে ফেলে সাফল্য ও অল্পের জন্য ব্যর্থতার সূক্ষ পার্থক্য। এক দিকে, এই নিয়ে টানা ৫ বার মিয়ামি ওপেনের ফাইনালে হারলেন নাদাল। অন্য দিকে, ১১ বছর বাদে মিয়ামি ওপেনের শিরোপা তৃতীয় বারের জন্য জিতলেন ফেডেরার। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নায়ক কঠিন সময়ে তাঁর টিমের পাশে থাকটাকে যেমন নিজের শক্তি হিসেবে জানালেন, তেমনই করতে ভুললেন না নাদালের প্রত্যাবর্তনের প্রশংসা। বলে দিলেন, “নাদালও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেছে। আর এর পর আসছে সুরকির মাটিতে লড়াই। ও যে রকম ছন্দে রয়েছে, তাতে প্রতিপক্ষকে ছিঁড়ে খাবে।” পাশাপাশি নাদালের হার নিয়ে বললেন, “২০০৪ সাল থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছি, সে দিনের তরুণ আজ শক্তপোক্ত ব্যক্তি। বহুবার দু’ জনে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়েছি। বেশ অনেক বারই অভিজ্ঞতা ভালো নয়। ২০০৫ সালে ভাগ্যক্রমে এখানের ফাইনালে জিতেছিলাম ওর বিরুদ্ধে। আর আশা রাখি ও দ্রুত মিয়ামি ওপেন পাবে। এই টুর্নামেন্ট জেতার ক্ষমতা হেসেখেলে রাখে নাদাল।” উল্লেখ্য, মহাকাব্যিক এই ডুয়েলের ৩৭তম অধ্যায়ে জিতলেও হেড টু হেডে ফেডেরার ২৩-১৪ তে পিছিয়ে। আর ফেডেরারের বলতে ওঠার কিছুক্ষণ আগেই নাদাল বলে গেছিলেন, “৩ বছর অন্তর পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে ছোটো ট্রফিটা নিয়ে ফিরতে হয়। আশা করি আরও তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে না ট্রফিটার জন্য।”

আখেরে নাদাল-ফেডেরার দ্বৈরথে দু’ জনের মধ্যে যে কোনো এক জন তো ম্যাচে জয়ী হন। আখেরে তো জেতে টেনিস। সব বাধা অতিক্রম করে ফের শীর্ষে ওঠার বাসনাটা পের মাথা ঝাড়া দিয়ে ওঠে। এ দিন বেশি ভালো টেনিসের পাশাপাশি ভাগ্যের সাহায্য ছিল ফেডেরারের পক্ষে। দুরন্ত শুরুর পরে ৪৫ মিনিটের মাথায় প্রথম সার্ভিস ব্রেক করেন তিনি। কয়েক মুহূর্ত বাদেই ৬-৩ ব্যবধানে সেট পকেটে। আর দ্বিতীয় সেটেও দৃষ্টিনন্দন টেনিসের ঝলক। ৪-৪ পয়েন্টে দু’ জনের লড়াইয়ের মাঝেই ফেডেরারের শট নেটের উপরে লেগে নাদালের দিকে গড়িয়ে পড়ে। সেখানেও সার্ভিস ব্রেক। আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই ৬-৪ ব্যবধানে সেট জিতে চ্যাম্পিয়ন্সশিপের দখল।

নতুন করে লড়াইয়ের মাঝেই কিন্তু ফ্রেঞ্চ ওপেনের দামামা বাজিয়ে দিলেন ফেডেরার। মাঝে মন্টে-কার্লো ও মাদ্রিদ ওপেনের পরেই প্রেমের শহরে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। এ বার দেখার সুরকির সম্রাটের প্রত্যাবর্তনও কি সুরকির কোর্টেই লেখা হয়, নাকি ফেডেরারের স্বপ্নের প্রত্যাবর্তনের দৌড় জারি থাকে।

ফেডেক্স বনাম রাফা লড়াইয়ের তথ্যতালাশ যা দাঁড়াল:

  • ফেডেরার বনাম নাদালের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৩ বছর আগে এই মিয়ামি মাস্টার্সেই। ২০০৪ সালে। সেই ম্যাচে জিতেছিলেন নাদাল।
  • এই নিয়ে ৩৭ বার মুখোমুখি হলেন ফেডেরার ও নাদাল। ফেডেরার জিতলেন ১৪ বার। নাদাল জিতেছেন ২৩ বার।
  • কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে দু’জনের লড়াই হল ২২ বার। নাদাল জিতেছেন ১৪ বার। ফেডেরার জিতলেন ৮ বার।
  • চলতি বছর এ নিয়ে দু’জনের দেখা হল ৩ বার। ৩ বারই জিতলেন ফেডেরার।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here