নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: শ্রমিক-মালিক অসন্তোষের জেরে বন্ধ হয়ে গেল উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী সামসিং চা বাগান। জলপাইগুড়ি জেলার মেটেলি ব্লকের এই বাগানে ১৪৬৫ জন শ্রমিক কাজ করতেন। আচমকা কাজ হারিয়ে তাঁরা সবাই দিশেহারা।

অসন্তোষের সূত্রপাত সোমবার সন্ধ্যায়। বাগানের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা নিয়ে বচসা বাঁধে বাগানের ম্যানেজার ও কয়েকজন শ্রমিকের মধ্যে। বচসার মধ্যেই দুই সহকারী ম্যানেজার প্রদীপ বিশ্বকর্মা ও দীপক বন্দোকে মারধরের অভিযোগ ওঠে উত্তেজিত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। প্রাণভয়ে বাগান ছেড়ে পালিয়ে যান ওই দু’জন। রাতে বাগান ছাড়েন ম্যানেজার জয়ন্ত বিশ্বাসও।

মঙ্গলবার সকালে কাজে যোগ দিতে এসে শ্রমিকরা দেখেন বাগানের কারখানার গেট তালা বন্ধ। নেই কোনো আধিকারিক। কিন্তু বাগান বন্ধের নোটিশ না থাকায় তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিকেলে সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ লিখিত ভাবে জারি করে বাগান কর্তৃপক্ষ। এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকেরা। তাঁরা কারখানার গেটে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিদ্যা তামাং নামে এক শ্রমিকের অভিযোগ, “কয়েক জন শ্রমিকের গণ্ডগোলের জেরে বাকি শ্রমিকেরা কেন সমস্যায় পড়বেন?” 

এ দিকে সহকারী ম্যানেজারদের মারধরের ঘটনায় নাম জড়িয়েছে বাগানের স্থানীয় তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের। মঙ্গলবার মেটেলি থানায় বিধান ছেত্রী, ভানুভক্ত শর্মা-সহ চার শ্রমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন জয়ন্তবাবু। বাগান সুত্রে খবর, এঁরা প্রত্যেকেই তৃণমূল প্রভাবিত চা শ্রমিক সংগঠনের নেতা। জয়ন্তবাবুর কথায়, “কাজকর্ম নিয়ে নিয়মের কড়াকড়ি করায় বহু দিন ধরেই কয়েক জন শ্রমিক নেতা আমার ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। কাল অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তাঁরাই এই গণ্ডগোল পাকিয়েছেন। থানায় অভিযোগ করায় আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছেন অভিযুক্তরা। নিরাপত্তার অভাবেই বাগান ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।” যদিও বাগানের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতা অনিরাজ সুনার বলেন, “যাঁরা দোষী, পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিক। কিন্তু এই ভাবে বাগান বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।”

ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চা-মালিকদের সংগঠন ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনও। সংগঠনের উপদেষ্টা অমৃতাংশু চক্রবর্তী বলেন, “নোট বাতিলের ফলে এমনিতেই বাগানগুলিতে সমস্যা চলছে। তার মধ্যে এই ধরনের ঘটনা সামগ্রিক ভাবে চা শিল্পেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here