নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : ‘পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া চাই, সিলেক্টিভ ইনভেস্টিগেশন মানেই অন্যায় হচ্ছে’, জলপাইগুড়ি আদালতে এসে মন্তব্য সিআইডির হাতে ধৃত শাস্মিতা ঘোষের। ৭ দিনের সিআইডি হেফাজত শেষে মঙ্গলবার দুপুরে শিশুপাচার কাণ্ডে ধৃত শাস্মিতাকে জলপাইগুড়ি আদালতে নিয়ে আসা হয়।

বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ বিচারকের সামনে হাজির করার আগে ফের বিস্ফোরক শাস্মিতা ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, সিস্টেমের চাপে অ্যাড হক কমিটি গঠন করতে বাধ্য করা হয়েছিল। বহুবার নির্দিষ্ট জায়গায় নতুন শিশু সুরক্ষা সমিতি গঠনের আবেদন জানালেও তা গঠন করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, নতুন শিশু সুরক্ষা সমিতি গঠন করতে কারা চাইছিল না, তা-ও খতিয়ে দেখা উচিত। তাঁর আরও অভিযোগ, বর্তমান শিশু সুরক্ষা সমিতিও কোনো নিয়ম না মেনেই শিশু দত্তক দিচ্ছে, যা শিশুপাচারের সমান।

আদালতে পেশের পর শাস্মিতার আইনজীবী অলকেশ চক্রবর্তী তাঁকে নির্দোষ দাবি করে জামিনের আবেদন জানান। শাস্মিতার স্বপক্ষে বেশ কিছু নথিও আদালতে জমা দেন তিনি। সেই নথিতে দেখা যাচ্ছে, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ২০১৪ সালে জলপাইগুড়ি শিশু সুরক্ষা সমিতির একটি অ্যাড হক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তৎকালীন জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা সমাজকল্যাণ আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয়েছিল তা। যদিও শিশু সুরক্ষা আইন অনুযায়ী এই ধরনের অ্যাড হক কমিটি অবৈধ। তাই তৎকালীন প্রশাসনিক কর্তারা কী কারণে সব জেনেও এই অ্যাড হক কমিটি তৈরি করেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শাস্মিতার আইনজীবী।

সরকারি আইনজীবী প্রদীপ চ্যাটার্জি অবশ্য শাস্মিতার জামিনের বিরোধিতা করেন। দু’ পক্ষের বক্তব্য শোনার পর শাস্মিতাকে তিন দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

এ দিকে এ দিন শিশুপাচার কাণ্ডে মুল অভিযুক্ত চন্দনা চক্রবর্তী ও চিকিৎসক দেবাশিস চন্দকেও সিআইডির আবেদনের ভিত্তিতে আদালতে নিয়ে আসা হয়েছিল। বেশ কিছু নথিতে তাঁদের দু’ জনের হস্তাক্ষর মেলানোর জন্য ‘হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্ট’-এর জন্য আবেদন জানিয়েছিল সিআইডি, যদিও চন্দনা চক্রবর্তীর আইনজীবীর আপত্তিতে আজ আর তা হয়নি। সন্ধ্যায় ফের তাঁদের শাস্মিতার সঙ্গেই জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

অন্য দিকে, শিশুপাচার কাণ্ডে ধৃতদের জেরা করে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নিজেদের ভিত্তি মজবুত করতে সরকারি সাক্ষী জোগাড়েও জোর দিচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। আজ চন্দনা চক্রবর্তীর হোমের তিন কর্মী ও এক প্রাক্তন কর্মীকে বিচারকের সামনে গোপন জবানবন্দি দিতে নিয়ে আসেন তাঁরা। এর আগেও চন্দনা চক্রবর্তীর বেশ কয়েক জন আত্মীয় গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন আদালতে। পরে মামলা চলাকালীন চন্দনা চক্রবর্তী ও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এদের সরকারি সাক্ষী হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে সূত্রের খবর।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন