নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : ‘গাছ পাহারা’ দিচ্ছে পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় বনাঞ্চল সংলগ্ন বনবস্তির বাসিন্দারা। কোনো ভাবে গাছ কেটে পরিবেশের ক্ষতি করতে দিতে নারাজ তাঁরা। উভয় সংকটে জলপাইগুড়ি পুর্ত দফতর এবং বনবিভাগ। কারণ গাছ না কাটলে উড়ালপুল তৈরি সম্ভব নয়।

জলপাইগুড়ির লাটাগুড়িতে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের বুক চিরে চলে গিয়েছে ৩১ নং জাতীয় সড়ক। বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকা দিয়ে গিয়েছে শিলিগুড়ি-চ্যাংরাবান্ধা রেলপথও। সেখানেই রয়েছে বিছাভাঙা লেভেল ক্রসিং। এখানেই যাতায়াতের সুবিধার জন্য উড়ালপুল তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জলপাইগুড়ি পুর্ত দফতর। সেই প্রয়োজনেই গাছ কাটার অনুমতি দেয় জলপাইগুড়ি বনবিভাগও। প্রায় আড়াই কিলোমিটার লম্বা উড়ালপুলটির জন্য কাটা পড়বে সাড়ে পাঁচশো গাছ। এখানেই তীব্র আপত্তি পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির। তাদের অভিযোগ এতগুলি গাছ কেটে ফেলায় পরিবেশের যে ধরনের ক্ষতি হবে, তা নিয়ে কোনো রকম সমীক্ষা করেনি বন দফতর। বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে যেখানে গাছ লাগানোটাই দস্তুর, সেখানে এক সঙ্গে এতগুলি গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত কী ভাবে নেওয়া হল তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য নন্দু রায়। ওভারব্রিজের বদলে আন্ডারপাস তৈরি হলে এত সংখ্যায় গাছ কাটার প্রয়োজন হবে না বলে দাবি এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সম্পাদক শ্যামাপ্রসাদ পাণ্ডের। গরুমারা বনাঞ্চল সংলগ্ন বনবস্তির বাসিন্দা ধীরেন কোঁড়ার অভিযোগ, যেখানকার গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেটা বন্যপশুদের করিডর। গাছ কেটে ফেলা হলে এই সব বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়বে। তাতে মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত আরও বাড়বে। বনবস্তির বাসিন্দারা এই সমস্যার সুরাহা করতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বুধবার জেলাশাসক রচনা ভগতকে একটি স্মারকলিপিও দেন বনবস্তির বাসিন্দারা। মঙ্গলবার এবং বুধবার প্রায় সারা দিনই প্ল্যাকার্ড হাতে গাছ পাহারা দিয়েছেন সকলে মিলে। তাঁদের আশংকা যদি বনকর্মীরা ফের গাছ কাটতে আসেন! যদিও সোমবার মারমুখী বাধা দানের পর আর সে পথ মাড়াননি বনকর্মীরা। জলপাইগুড়ি বনবিভাগের বনাধিকারিক বিদ্যুৎ সরকার অবশ্য জানিয়েছেন, সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই বিষয়টি নিয়ে এগোনো হবে। বনবস্তিবাসী এবং পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির সঙ্গে কথা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। বন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ জানিয়েছেন, তাঁরাও পরিবেশ রক্ষার পক্ষে, পরিস্থিতি দেখে পদক্ষেপ করা হবে। যদিও নিজেদের দাবিতে অনড় বনবস্তিবাসী এবং পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি। তাঁদের হুঁশিয়ারি, সিদ্ধান্ত বদল না হলে আরও বড় ধরনের আন্দোলনের পথেও তাঁরা হাটতে পারেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here