সানি চক্রবর্তী :

মাঠের বাইরে জোড়া স্বস্তি মোহনবাগান শিবিরে। এক দিকে বুধবার মধ্যরাতে শহরে পৌঁছে গেলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকদের নতুন প্রাণভোমরা সনি নর্ডি। অপর দিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে পরিবেশ আদালতের গেরো টপকে রবীন্দ্র সরোবরে ম্যাচ আয়োজনের ছাড়পত্র পেয়ে গেলেন বাগান-কর্তারা। যার ফলে মাঠ-বিতর্ক পিছনে ফেলে দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই কলকাতার মধ্যে থাকা মাঠকে হোমগ্রাউন্ড করতে পারছে তারা। ঘাসের মাঠে খেলতে পারার জন্য অবশ্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে, এ রকম শর্তগুলো মেনে চলতে হবে তাদের। আইএসএলে খেলতে এটিকে-কে ঠিক যে যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল, তাই থাকছে এ ক্ষেত্রেও। তবে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মাত্র সাড়ে চার হাজার টিকিট বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর গোটা বিষয়টায় যাতে কোনো রকম ফাঁকফোকর না থাকে, তা নিশ্চিত করতে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে কড়া নজর রাখার দায়িত্বও দিয়েছে আদালত।

এ দিকে দীর্ঘ বিমান যাত্রার পরে সনি এসে পৌঁছোনোয় তাঁর শুক্রবারের শিলং লাজং ম্যাচে নামার কোনো সম্ভাবনাই নেই, দলের খেলা দেখতে যদিও মাঠে যাবেন তিনি। সকালে মোহনবাগান মাঠে সনিকে নিয়ে প্রশ্ন করতেই সঞ্জয় সেন যদিও সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, “আগে দলের অনুশীলনে যোগ দিক, দেখি কেমন অবস্থায় রয়েছে, তার পরে ম্যাচ খেলানোর ভাবনা।” হাইতিয়ান তারকা যে তাঁর ভাবনায় নেই, সেটা পরিষ্কার। তবে তাঁর চিন্তার জায়গা অনূর্ধ্ব-২২ কোটার ফুটবলার খেলানোর নিয়ম। চার্চিল ম্যাচে শুভাশিস লাল কার্ড দেখায় এই ম্যাচে নির্বাসিত তিনি। তাই লেফট ব্যাকে খেলবেন শৌভিক ঘোষ। তাই অনূর্ধ্ব-২২ ফুটবলার খেলাতে দলের মাঝমাঠে বাধ্য হয়েই পরিবর্তন করতে হবে তাঁকে। মাঝমাঠে সৌরভ দাস শুরু করতে পারেন ডান দিকে, সে ক্ষেত্রে পরিবর্ত হয়ে নামতে পারেন কাটসুমি। আবার প্রথম দিকে সেট দল নামিয়ে, গোল তোলার জন্য মরিয়া চেষ্টা করতে পারেন তিনি, পরে সময়মতো নিয়মরক্ষার জন্য নামিয়ে দিতে পারেন কোনো অনূর্ধ্ব-২২ ফুটবলারকে।

ডিপ ডিফেন্সে আগের দিনের মতো কিংশুক-আনাস জুটির শুরু করারই সম্ভাবনা বেশি। এডু এখনও ফিট নন, তাই ১৮ জনের দলেও হয়তো ঠাঁই হবে না তাঁর। আবার ফিট হয়েও হয়তো ১৮ জনের দলে থাকবেন জেজে। জ্বর-সর্দির জেরে ডাফি এ দিন প্রথম দলের সঙ্গে অনুশীলন না করলেও আগামী কাল বলবন্তের সঙ্গে বাগান কোচের প্রথম পছন্দ স্কটিশ স্ট্রাইকারটিই। মোহনবাগান যেমন এক দিকে প্রবল প্রতিপক্ষ, অপর দিকে শিলং লাজং কাগজে–কলমে অনেকটাই দূর্বল। ফ্যাবিও পেনা-দিপান্ডা ডিকার মতো চেনা বিদেশিরা ছাড়া দলের শক্তি এক ঝাঁক পাহাড়ি তরুণ, যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সানা-আইজ্যাকরা। বেশির ভাগ ফুটবলারেরই বয়স ২২ বছরের মধ্যে। শারীরিক গঠনে শক্তিশালী না হলেও, খেলার প্রাথমিক পাঠটা খুব ভালো রপ্ত তাঁদের। তা ছাড়া বেশির ভাগ ফুটবলারই অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়া থেকে এক সঙ্গে খেলছেন। তাই তাঁদের বোঝাপড়াটা দারুণ। সর্বোপরি রয়েছে তরুণদের মারাত্মক গতি ও নিজেদের প্রমাণ করার খিদে। আইএসএলে দিল্লি ডায়ানামোজের হয়ে খেলা সানা যেমন বলছিলেন, “আমাদের বেশির ভাগের বয়সটাই কম। এ বারে আমাদের হারানোর কিছু নেই, আছে শুধু শেখার সুযোগ। তাই প্রত্যেকে নিজেদের সেরাটা দেব।”

এ দিনই প্রথম নিজেদের তাঁবুতে বসে ভিডিও অ্যানালিসিসের মাধ্যমে অনুশীলনে নামার আগে আগের ম্যাচের ভুলত্রুটিগুলো সাজঘরে দেখেন বাগান ফুটবলাররা। ময়দানে অভিনব এই আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফুটবলাররা আরও বেশি লাজং ম্যাচের আগে।

পরিসংখ্যানও বলছে লাজং দল মোহনবাগানের শক্ত গাঁট। তরুণদের নিয়ে কাজ করা সঞ্জয় সেনও জানেন অনভিজ্ঞ বলেই তাদের খাটো করাটা বোকামো। বলছিলেন, “ম্যাচটা কঠিন হবে। ছেলেদের সাবধান করে দিয়েছি। আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে সব ম্যাচে জিততে হবে এই মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামতে হবে।” অন্য দিকে, অসম লড়াইয়ের আগে দাঁড়িয়ে লাজং কোচ থংবই সিংটোর গলায় আত্মবিশ্বাসের সুর। খুব কঠিন ম্যাচ জেনেও চাইছেন, ছেলেরা ফল নিয়ে না ভেবে নিজেদের সেরাটা দিক চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে। দলের তরুণদের মধ্যে সেই মানসিকতাটা অনেকটাই ঢুকিয়েও দিতে পেরেছেন তিনি। এ বার দেখার রবীন্দ্র সরোবরে আই লিগের প্রত্যাবর্তনে অভিজ্ঞতাই বাজি মারে, নাকি তারুণ্যের নতুন প্রবাহের সূচনা হয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here