আর্থিক দুর্নীতি: প্রেসিডেন্ট পার্ক গুন হে-কে সরিয়ে দিল দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত

0

সিওল: আর্থিক দুর্নীতি, ঘুষ নেওয়া, টাকা তোলার অভিযোগে সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে তাঁকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইমপিচ করা হয়েছিল গত ডিসেম্বরেই। কিন্তু এতদিন প্রেসিডেন্টের বাসভবনেই থাকছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গুন হে। একা, প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছিল না তাঁকে। অপেক্ষা করছিলেন সাংবিধানিক আদালতের রায়ের জন্য। সেই রায় জানা গেল শুক্রবার। পার্ককে ইমপিচমেন্ট করার ঘটনাকে বৈধতা দেওয়া হল রায়ে। এই প্রথম গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে ইমপিচ হতে হল দক্ষিণ কোরিয়ায়।


পার্ক ছিলেন সে দেশের রক্ষণশীল অংশের প্রতিনিধি। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের জন্য পরিচিতি ছিল তাঁর। এ ব্যাপারে তাঁর জোট ছিল আমেরিকার সঙ্গে।


আদালতের সিদ্ধান্ত জানার পরেই দেশের পথে পথে উল্লাসে ফেটে পড়ে জনতা। বস্তুত, গত কয়েক মাস যাবত দক্ষিণ কোরিয়া কেবল বিক্ষোভ দেখেছে। দিনের পর দিন অবরুদ্ধ থেকেছে রাস্তাঘাট। লক্ষ লক্ষ মানুষ পথে নেমেছেন পার্কের বিরুদ্ধে। পার্কের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এতটাই গুরুতর ছিল যে সে দেশের বাণিজ্য মহল ও সবচেয়ে ক্ষমতাশালী অংশে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। তার ফলেই গত ডিসেম্বরে ইমপিচ করা হয় তাঁকে।

anti-perk-protest-in-south-korea

প্রেসিডেন্টের বাসভবনটি পার্কের ছোটোবেলার বাড়ি। নয় বছর বয়সে তিনি প্রথম এই বাড়িতে আসেন। তাঁর বাবা পার্ক চুং হি ছিলেন ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক একনায়ক। আততায়ীর হাতে নিহত হয়েছিলেন সেই সামরিক একনায়ক ও তাঁর স্ত্রী। ফলে দু’দশক ওই বাড়িতে থাকার পর বাড়ি ছাড়তে হয় পার্ককে। পরে, ভোটে জিতে দেশের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ওই বাড়িতে ফিরেছিলেন পার্ক। কিন্তু আর নয়।

আদালতের এই রায় এশিয়ার রাজনীতির পক্ষেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহাদেশের রাজনীতি যে সূক্ষ্ণ ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল এতদিন, তা এবার নড়ে গেল বলেই মনে করছে অভিজ্ঞ মহল। পার্ক ছিলেন সে দেশের রক্ষণশীল অংশের প্রতিনিধি। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের জন্য পরিচিতি ছিল তাঁর। এ ব্যাপারে তাঁর জোট ছিল আমেরিকার সঙ্গে। এশিয়ার এই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থরক্ষায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

এখন পার্কের পতনের ফলে, সে দেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে উঠছে তাঁর বিরোধী পক্ষ। যারা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চান। সেই পক্ষের নেতা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তাঁরা ‘উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার যৌথ রণনীতি পুনর্মূল্যায়ন ও চিনের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ’ করতে চান।

পরিস্থিতি যদি সেই দিকে গড়ায়, তাহলে এশিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে বাড়তে চলেছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন