রবিশঙ্কর পাল

কলকাতা বইমেলায় অশোক কুমার সরকার মেমোরিয়াল লেকচার দিতে কলকাতায় এসেছেন স্পেনের কবি ফ্রান্সিসকো মুনিওজ  সোলের। নিজের ব্যস্ততার মধ্যে সময় বার করে ঘুরে দেখলেন কলকাতা শহরটা।

কেমন লাগছে কলকাতা শহরটা?

দিন তিনেক হল কলকাতা এসেছি। কাজের ফাঁকে যতটা সম্ভব ঘুরলাম। কলকাতার মানুষদের সঙ্গে আলাপ হল। অল্প সময়ের মধ্যেই সবাই বেশ বন্ধু হয়ে গেল। এখানে জীবন বেশ সুদৃঢ়। মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক শক্তি বেশ প্রবল। আর সবাই সব সময় উন্নতির চেষ্টা করে চলেছে।

কলকাতা কেমন ঘুরলেন?

মাদার টেরিজার বাড়ি দেখার সুযোগ হল। আমি খুব ভাগ্যবান। মাদারের কথা শুনলেই তো শান্তি, প্রেম আর দয়ার কথা মনে আসে, যা খ্রিস্টীয় আধ্যাত্মিকতার একটা বড়ো অংশ। মাদারের বাড়ি থেকে গেলাম জৈন মন্দিরে। দু’ গাছের সারি, মাঝে প্রশস্ত পরিচ্ছন্ন রাস্তা। মন্দিরটি সুন্দর। জৈন মন্দির দেখে আপনাদের কুমোরটুলি পাড়া। দেখলাম শিল্পীরা সবাই ব্যস্ত বিদ্যার দেবী সরস্বতীর মূর্তিতে তুলির শেষ টান দিতে। তাঁদের ভক্তির সঙ্গে সৃজনশীলতার মিশেল আমাকে বিস্মিত করল। তার পর গেলাম আমার খুব কাছের মানুষ রবীন্দ্রনাথের বাড়ি। তাঁর জীবন, তাঁর সাহিত্য বরাবরই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর বাড়ি গিয়ে তাঁকে আরও ভালো করে চিনলাম। তার পর কলকাতা শহরের বিখ্যাত বইপাড়া কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছোলাম। আগের দিন বইমেলায় বই দেখেছিলাম। আর এ  দিন দেখলাম কলেজ স্ট্রিটে। কলকাতার মানুষজন যে বই কত ভালোবাসে তার প্রমাণ পেলাম এখানে। এখানকার বুদ্ধিজীবীদের আড্ডাখানা ইন্ডিয়ান কফি হাউসেও গেলাম।

আপনি যে বইমেলায়  অশোক কুমার সরকার স্মারক বক্তৃতা দিলেন। সে ব্যাপারে কিছু বলুন।

বর্তমান স্প্যানিশ কাব্যসাহিত্য নিয়ে আলোচনা করলাম। শ্রোতারা ধৈর্য নিয়ে আমার কথা শুনলেন। কবিতার প্রতি এই শহরের যে একটা ভালোবাসা আছে তা বুঝতে পারলাম।

আবার আসবেন তো এই শহরে?

শনিবার এই শহর ছেড়ে দেশে ফিরে যাচ্ছি। সামনের বছর কী করব এখনও ঠিক নেই। তবে যদি আপনার শহর আবার ডাকে, অবশ্যই আসব।    

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here