কলকাতা : অবশেষে বাগডোগরা বিমানবন্দরে এ বার থেকে রাতেও নামবে বিমান। এর জন্য রাজ্য বিনামূল্যে ২৪ একর জমি তুলে দিয়েছে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার হাতে।  

উত্তর পূর্ব ভারতের প্রধান প্রবেশদ্বার হয়ে উঠেছে  শিলিগুড়ি। আর দিনে দিনে চাহিদা বাড়ছে বাগডোগরা বিমানবন্দরের। কিন্তু এত দিন পর্যন্ত বাগডোগরা বিমানবন্দরে  বিকেল সাড়ে ৪টের পর বিমান ওঠানামা করত না। কারণ এই বিমানবন্দরটি বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত। রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার প্রতিরক্ষা বিভাগ ও কেন্দ্রীয় সরকারকে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা বলেন। এবং তৎকালীন ইউপিএ সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও দেন তিনি, যাতে রাতেও এই বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা করতে পারে। শেষ পর্যন্ত ৫.৩৫ মিনিট পর্যন্ত বিমান ওঠানামার অনুমতি পাওয়া  গিয়েছিল। 

অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিমান ওঠানামার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু রাতে বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে ২৪ একর জমির প্রয়োজন ছিল। সেই জমি রাজ্য অধিগ্রণ করে এয়ারপোর্ট অথরিটির হাতে তুলে দিয়েছে। যারা ওই জমিতে বসবাস করছিল তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই জমিতে প্রয়োজনীয় কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। সামনের জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।  

বাগডোগরা বিমানবন্দরের গ্রোথ রেট দেশের মধ্যে সব থেকে বেশি। এ বছর যাত্রীসংখ্যা ২৯.৩% বৃদ্ধি পেয়েছে।  আর রাতের বিমান চলাচল শুরু হলে আরও ১১.৯% বাড়বে বলে মনে করছে রাজ্য। 

শুক্রবার বাগডোগরা বিমান বন্দর গরমকালে দৈনিক ২৯ টা বিমান নামবে ও  ২৬ উরবে বলে ঘোষনা করে।  যা আগে ১৫ থেকে ১৬ টি বিমান ওঠা নামা করত।  

পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, বাগডোগরা বিমানবন্দরের দ্রুত উন্নতি হচ্ছে, গত দু’ বছরে যাত্রীসংখ্যা দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর রাতে বিমান ওঠানামা করলে আরও বাড়বে বলে তাঁর আশা। কারণ শুধু উত্তরবঙ্গ বা উত্তরপূর্ব ভারত নয়, এখান থেকে বহু মানুষ নেপাল, ভুটান যাতায়াত করেন।

মন্ত্রী জানান, বাগডোগরার কাছে ৫ একর জমি নিয়ে যে আইনি বিবাদ ছিল তা মিটে গেছে। ওই জমিতে ট্যুরিস্টদের জন্য একটি কনভেনশন সেন্টার গড়ে তোলা হবে বলে।  

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here