সৌরভ ঘোষ। - নিজস্ব চিত্র

কলকাতা: প্রেমিকা গোপনে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও তুলেছিল বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, সেই ভিডিও দেখিয়ে প্রেমিককে ব্ল্যাকমেল করে টাকা নেওয়ার৷ টাকা দিতে না চাইলে পুলিশের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ দায়েরের হুমকি৷ শুধু তা-ই নয়, টাকা না দিলে ছেলেটির নামে সোশাল মিডিযায় নানা রকম পোস্ট করা হত বলে অভিযোগ করা হয়েছে৷ তার পরেও কথা না শুনলে বাড়ির লোকজন নিয়ে এসে মারধর করার অভিযোগ৷ ক্রমাগত এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ১৯ জুলাই হৃদয়পুর স্টেশনের কাছে ট্রেনের সামনে লাইনে ঝাঁপ দেয় ২১ বছরের এক যুবক। হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ওই প্রেমিকা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সোনারপুর থানা এলাকার দোলতলার বাসিন্দা ২১ বছরের যুবক সৌরভ ঘোষ৷ ১৯ জুলাই হৃদয়পুর ষ্টেশন থেকে এক ব্যক্তি তাকে প্রথমে উদ্ধার করে বারাসত জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন৷ পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে সেখান থেকে তাকে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসেন৷ সেখানেই মৄত্যু হয় তার৷

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনারপুরের বুড়ি বটতলার বাসিন্দা এক তরুণীর সঙ্গে বছরখানেক আগে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় সৌরভের৷ সৌরভের বাড়ির কাছেই ছিল তরুণীর মামার বাড়ি৷ মাঝেমধ্যেই সেখানে এসে থাকত সে৷ সেই সূত্রেই তাদের প্রথমে পরিচয় ও পরে ঘনিষ্ঠতা৷ কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে৷ সৌরভ কলেজ স্ট্রিট এলাকায় একটি বইয়ের দোকানে কাজ করত৷ সেখান থেকে সে যা উপার্জন করত তার থেকে প্রেমিকার চাহিদা মেটানো তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছিল৷ তরুণীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতেই দু’জনের মধ্যে সমস্যা বাড়তে শুরু করে৷ দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনও তৈরি হয়৷ বারংবার একই অশান্তি ও পরিবারের লোকজনদের অপমানিত হতে দেখে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সৌরভ৷ আত্মহত্যা করার আগে সে তার বক্তব্যও রেকর্ড করে গিয়েছে৷ এই ঘটনায় সোনারপুর থানায় অভিযোগ দা্যের করেছেন সৌরভের পরিবার৷ ওই তরুণী ছাড়াও তার বাবা, মা, দাদা, বৌদি এবং মামা ও মামীর নামে অভিযোগ করা হয়েছে৷ গোটা ঘটনার তদন্ত করছে সোনারপুর থানার পুলিশ৷

নিজস্ব চিত্র

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here