নিজস্ব প্রতিনিধি, বধর্মান: সময় কে ধরে রাখা যায়না সত্যি। কিন্তু ইতিহাসের সাক্ষী তো সময়ই। কালনার ঘোষ বাড়ির ইতিহাসিক ঘড়ি সেই কাজই করে আসছে প্রায় ১২০ বছর ধরে ।

১৮৯৭ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত একবারও থামেনি কালনার অকালপৌষ গ্রামের ঘোষ বাড়ির ঘড়ি । ব্রিটিশ আমলে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের জেলার হিসেবে কাজ করতেন ঘোষ বাড়ির কর্মকর্তা অর্ধেন্দুকুমার ঘোষ। এখন আর অর্ধেন্দু বাবু নেই। পরিবারের দায়িত্ব রয়েছে তারই নাতি তনুময় ঘোষের উপর। দাদুর কাছ থেকেই সব শোনা কথা। ইংল্যান্ডের কোনো এক সাহেবের কোনো অপরাধের কারণে জেল হয়ে যায়। সেই সময় সাহেবের কাছ থেকে ৫০০০ টাকার বিনিময়ে ঘড়িটি  কিনে আনেন দাদু অর্ধেন্দুকুমার। তারপর বাড়ি তৈরি করার সময় ঘড়িটিকে লাগানো হয় তাদের বাড়ির দেওয়ালে। তারপর থেকে আর ভাবতে হয়নি তাদের। আজ পর্যন্ত একবারও এক মুহূর্তের জন্য থেমে থাকেনি ঘড়ির কাঁটা। গ্রামের মানুষের দীর্ঘ দিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে এই ঘড়ি। সময় দেখে চাষে যাওয়া, ছোটোদের স্কুলে যাওয়া সবই এই ঘড়ির কাঁটা ছুঁয়ে।

ইংল্যান্ড থেকে আমদানি করা হয়েছিল ওয়েস্ট অ্যান্ড ওয়াচ কোম্পানির এই ঘড়িটি । এর মূল বিশেষত্ব এটি তিনমুখী। তিন দিক থেকেই দেখা যায় ঘড়ির সন্মুখ। ঘরের ভিতর থেকে একদিক ও বাইরে পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে বিশাল আকৃতির এই ঘড়ি দেখা যায় । ১৫ দিন অন্তর এই ঘড়িতে দম দিতে হয়। দম দেওয়ার কাজ ও চলে আসছে বংশ পরম্পরায় । অর্ধেন্দুবাবুই এই ১৫ দিন অন্তর এই দম দেওয়ার কাজ করতেন তারপর তাঁর ছেলে , এখন নাতি তনুময় । একবারের জন্যও ভোলেননি কেউ।

তনুময় জানান, এই ঘড়ি তাঁর দাদু ও বাবার ইতিহ্য , গ্রামের মানুষের একটা গর্বের কারণ । দূরদুরান্ত থেকে মানুষজন এই ঘড়িটি দেখতে আসেন।  সারা বাংলায় এরকম ঘড়ি আর আছে কিনা আমার জানা নেই। একবার কোলকাতা থেকে কিছু সাহেব বাবার কাছে এসে ১ কোটি টাকা দিয়ে ঘড়িটি কিনতে চায়। বাবা তাদের ফিরিয়ে দেন। তবে এখন চিন্তার বিষয় কিছু দিন আগেই বাবা মারা গেছেন , আমার আর কোনো ভাই বা আত্মীয় নেই। সরকারের কাছে আর্জি, তারা যেন এই ঘড়িকে বাঁচিয়ে রাখেন আমাদের অবর্তমানে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here