জলপাইগুড়ি: রক্ষক-এর ভক্ষক হয়ে ওঠার  অভিযোগ উঠছিল দীর্ঘদিন ধরেই। এতদিন পরে কিছুটা সক্রিয় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। ১৪টি শিশুর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হল বিমলা শিশুগৃহ থেকে। হোমের কর্ণধার চন্দনা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে চলবে তদন্ত।

জলপাইগুড়ি কেরানিপাড়ায় রয়েছে বিমলা শিশুগৃহ। নর্থবেঙ্গল পিপলস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার নামে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত একটি স্বেছাসেবী সংগঠনের অধীনে রয়েছে এই হোম। দীর্ঘদিন ধরেই হোমের কর্ণধার চন্দনা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উঠছিল। মূলত এই হোমে উদ্ধার হওয়া বা অনাথ এবং দরিদ্র পরিবারের শিশু এবং নবজাতকদের রাখা হয়। এই শিশুদের ঠিকমতো দেখভাল করা হত না বলে অভিযোগ। এমনকি নবজাতক বা উদ্ধার হওয়া শিশুরা উপযুক্ত চিকিৎসাও পেত না বলে তদন্তে উঠে এসেছে। 

এ ছাড়াও আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই হোমের বিরুদ্ধে। ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ১৭টি শিশুকে অবৈধ ভাবে দত্তক দেওয়া হয়েছে এই হোম থেকে। এদের মধ্যে আবার ৬টি শিশু ‘নিখোঁজ’ বলে অভিযোগ। এই শিশুগুলিকে কোন অভিভাবকের হাতে কবে তুলে দেওয়া হয়েছে তার কোনো সঠিক তথ্য নেই হোম কর্তৃপক্ষের কাছে। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি শিশুপাচারের অভিযোগ করেছেন হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। রিঙ্কু বোস নামে এক স্থানীয় মহিলার অভিযোগ, কোনো এক ‘অজ্ঞাত’ কারণে এতদিন নিশ্চুপ ছিল প্রশাসন। গত বছর জুন মাসে হোমের বিরুদ্ধে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয় জেলা শিশুসুরক্ষা সমিতি। শুরু হয় তদন্ত। এরই মধ্যে রাজ্য জুড়ে শিশুপাচার নিয়ে হইচই শুরু হয়। রাজ্য সরকারের সক্রিয়তায় গতি আসে তদন্তে। নারী, শিশু ও সমাজকল্যণ দফতরের আধিকারিক এবং জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ বেশ কয়েক বার হোম পরিদর্শনের পর বহু নথি বাজেয়াপ্ত করেন। রবিবার ডাইরেক্টরেট অফ চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড ট্রাফিক ইউনিটের নির্দেশে প্রশাসনিক আধিকারিকরা হোমে আসেন। তাঁরা দেখতে পান সেখানে আরও ১৪টি শিশু রয়েছে। সেখান থেকে তাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের মধ্যে তিন নবজাতকের শারীরিক অবস্থা বেশ সঙ্গীন হওয়ায় তাদের বর্তমানে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের তিনটি হোমে আপাতত রাখা হবে। জেলা সমাজকল্যাণ আধিকারিক পীযূষ সাহা জানিয়েছেন, এর পরে দফতরের নির্দেশে আগামী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিশু সুরক্ষা সমিতির চেয়ারপার্সন বেবি উপাধ্যায় জানিয়েছেন, তদন্ত চলবে এবং তার রিপোর্ট প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে।

যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন হোমের কর্ণধার চন্দনা চক্রবর্তী। তিনি পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, শিশুসুরক্ষা সমিতি তাঁর হোমের বিরুদ্ধে যে মিথ্যে অভিযোগ এনেছেন তার বিরুদ্ধে তিনি ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here