panchayet-election
saibal biswas
শৈবাল বিশ্বাস

এপ্রিলের শেষ নাগাদ এ রাজ্য‌ে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবে। ইতিমধ্য‌ে রাজ্য‌ নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য‌ের ২১টি জেলার মধ্য‌ে ১৫টি জেলারই সভাধিপতির পদ সংরক্ষণের আওতায় এসেছে। যে সব জেলাগুলি জেনারেল ক্য‌াটাগরিতে পড়েছে, অর্থাৎ যে সব জেলার সভাধিপতি পদগুলি অসংরক্ষিত সেখানে সহসভাধিপতি পদগুলিকে সংরক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। সংরক্ষিত জেলাগুলির ক্ষেত্রে সহসভাধিপতি পদকে অসংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, কোন কোন জেলার সভাধিপতি পদ সংরক্ষণের আওতায় পড়েছে-

আলিপুরদুয়ার (তপশিলি জাতি), জলপাইগুড়ি (তপশিলি জাতি/মহিলা), শিলিগুড়ি মহকুমা পর্ষদ (ওবিসি), উত্তর দিনাজপুর (মহিলা),দক্ষিণ দিনাজপুর (তপশিলি জাতি/মহিলা), মুর্শিদাবাদ(ওবিসি),নদিয়া (মহিলা),উত্তর ২৪ পরগনা(তপশিলি জাতি/মহিলা),হাওড়া (মহিলা), পূর্ব মেদিনীপুর (ওবিসি), পশ্চিম মেদিনীপুর (মহিলা),ঝাড়গ্রাম(তপশিলি জাতি/মহিলা),বাঁকুড়া(তপশিলি উপজাতি), পূর্ব বর্ধমান(মহিলা), পশ্চিম বর্ধমান(তপশিলি জাতি/মহিলা)।

যে সব জেলাগুলির সহসভাধিপতির পদ সংরক্ষণের আওতায় পড়েছে সেগুলি হল-

কোচবিহার(তপশিলি জাতি/মহিলা),মালদহ (তপশিলি জাতি), দক্ষিণ ২৪ পরগনা(তপশিলি জাতি/মহিলা), হুগলী (তপশিলি জাতি), পুরুলিয়া (তপশিলি উপজাতি/মহিলা), বীরভূম(ওবিসি)।

সার্বিকভাবে গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চাশ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য‌ সংরক্ষিত। তাছাড়াও গ্রাম পঞ্চায়েত আসনে ও অন্যান্য সংরক্ষণের কোটাও যথারীতি কার্যকর করা হবে। সব মিলিয়ে এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সংরক্ষণের পরিমাণ সত্তর শতাংশের কাছাকাছি। কোন পদ সংরক্ষণের আওতায় আসবে আর কোনটি বাদ যাবে তা নিয়ে চুলচেরা হিসাব শুরু করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতবারের অভিজ্ঞতার নিরিখে খুব সাবধানে হিসাব কষা চলছে তার কারণ মামলা হয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাক সেটা একেবারেই কাম্য‌ নয়।

সংরক্ষণের কোটা প্রকাশিত হওয়া মাত্র শাসক ও বিরোধী মহলে ব্য‌াপক উদ্য‌োগ নিয়ে প্রার্থী বাছাই পর্ব শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে জেলা পরিষদের আসনে একেবারে নতুন প্রার্থীর বাছাইয়ের ওপরই দলনেত্রী জোর দিয়েছেন। ডুমুরজলায় দলীয় কর্মীদের সম্মেলনে মমতা স্পষ্টই বলে দিয়েছেন, গত পঞ্চায়েতে যে সব নির্বাচিত সদস্য‌র বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অন্য‌ ধরনের অভিযোগ উঠেছিল তাদের একেবারে বাদ দেওয়া হবে।শুধু তাই নয়, এবারে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একমাত্র যোগ্য‌তা হবে জন সংযোগ ও মানুষের সঙ্গে ব্য‌বহার। জেলার নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠদের যাতে পিছনের দরজা দিয়ে টিকিট পাইয়ে না দেওয়া হয় সেদিকে জেলার পর্যবেক্ষকদের কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ জেলার নেতারা প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মতামত দিতে পারবেন বটে, কিন্তু তার হাতে সম্পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। সর্বোপরি নিজের একান্ত সূত্র থেকে দলনেত্রী অন্তত পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ স্তরে প্রার্থীদের অতীত রেকর্ড খতিয়ে দেখবেন বলে খবর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here