হোটেলে ফেরার জন্য ট্যাক্সির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন মইনুল-তানিয়া

ওয়েবডেস্ক: গত শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতায় জাগুয়ার-মার্সিডিজ বেঞ্চ সেডানের সংঘর্ষে প্রাণ যায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের। চিকিৎসা করানোর উদ্দেশেই কলকাতায় এসেছিলেন তাঁরা। কিন্তু রোগে নয়, আকস্মিক দুর্ঘটনার কবলে পড়েই প্রাণ খোয়াতে হল তাঁদের।

শুক্রবার রাত ১.৫০টা নাগাদ ওই #গাড়ি দুর্ঘটনার পরই পুলিশ কিয়স্কের পাশে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকা তিন জনকে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে দু’জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তাঁরা হলেন কাজি মহম্মদ মইনুল আলম (৩৬) ও ফারহানা ইসলাম তানিয়া (২৮)। মইনুলের বাড়ি বাংলাদেশের ঝিনাইদহে। চাকরি করতেন গ্রামীণ ফোনে। অন্য দিকে, তানিয়া ছিলেন বাংলাদেশের সিটি ব্যাঙ্কের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে।

তৃতীয় আহত ব্যক্তি মইনুলের বন্ধু জিয়াদ। সংবাদ মাধ্যমের কাছে তিনি জানিয়েছেন, মইনুল এবং তানিয়াকে পুলিশ কিয়স্কের দেওয়ালে পিষ্ট করে দেয় গাড়িটি। সেখানে কী করছিলেন তাঁরা?

তানিয়া এবং মইনুল

জিয়াদ জানিয়েছেন, চোখের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন মইনুল। চোখ দেখাচ্ছিলেন শঙ্কর নেত্রালয়ে। পাশাপাশি তানিয়ার চিকিৎসার জন্যও তাঁরা ঢাকা থেকে এখানে এসেছিলেন। উঠেছিলেন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভিআইপি হোটেলে। রেস্তোঁরায় রাতের খাবার খেয়ে তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন ট্যাক্সি ধরার জন্য। সে সময়ই ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

অন্য দিকে বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনের কর্তা মহম্মদ বসিরুদ্দিন জানান, “আমাদের দেশের দুই নাগরিক মারা গিয়েছেন। তাঁদের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। আমরা নিয়ম মেনে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। রাতে হোটেলে ফেরার সময় বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে কিয়স্কের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা। তখনই এই ঘটনা ঘটে। আমরা অভিযোগ দায়ের করেছি”।

আরসালান পারভেজ

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত আরসালান পারভেজকে গ্রেফতারের পর তাঁর বিরুদ্ধে মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্টে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.