এনআরসি আতঙ্কে রাজ্যে জোড়া মৃত্যুর অভিযোগ, অভয় দিলেন মমতা

ওয়েবডেস্ক: এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জী নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে মিথ্যে প্রচারের জোরালো অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এনআরসি নিয়ে আমার কথা হয়েছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি নিয়ে কিছু বলেননি তিনি। তবুও বিজেপি এটা নিয়ে মিথ্যা প্রচার করছে”। তবে এ দিনই এনআরসি আতঙ্কে রাজ্যের দু’জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার অমিতের সঙ্গে বৈঠকে অসমের এনআরসি প্রসঙ্গে আলোচনা হয় মমতার। এ দিন তিনি বলেন, “নাগরিকপঞ্জী নিয়ে ভয় দেখাচ্ছে বিজেপি। ডিজিট্যাল রেশনকার্ড বিলির সঙ্গে এনআরসির কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই”।

এনআরসি নিয়ে বিজেপিকে এক হাত নিয়ে মমতা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকপঞ্জী বিজেপির রাজনৈতিক প্রচার। মিথ্যে প্রচারে কান দেবেন না। বাংলায় নাগরিকপঞ্জী কোনো মতেই হতে দেব না”।

শুক্রবার ডিজিট্যাল রেশন কার্ড করাতে গিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে এক জনের মৃত্যু হয়। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, এ দিন সকাল ১১টা নাগাদ লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন জলঘর এলাকার বাসিন্দা মন্টু সরকার (৫২)। বেশ কয়েক দিন ধরেই এনআরসি নিয়ে আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি। গতকালও তিনি ডিজিট্যাল রেশন কার্ডের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু পাননি। ওই রেশন কার্ড না পাওয়া গেলে এনআরসিতে নাম বাদ পড়বে, এমন একটা আতঙ্ক তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছিল।

জানা গিয়েছে, বালুরঘাট বিডিও অফিসের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

অন্য ঘটনাটি ঘটে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে। পূর্বপুরুষের নথি জোগাড় করতে না পেরে অন্নদা রায় নামে এক যুবক আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর পরিবার। এনআরসি আতঙ্কেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.