Gender

ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের ১১টি জেলা থেকে ২০০-র বেশি পুরুষ মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে একত্রিত হয়েছেন নিজেদের ব্যবহারিক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেওয়ার জন্য। এই পরিবর্তন নারীর প্রতি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির, এই পরিবর্তন নারীর দায়িত্ববোধের প্রতি তাঁদের উপলব্ধির। পুরুষ হিসাবে সমাজে বিশেষ অধিকার পাওয়া এই পুরুষরা অনুভব করেছেন, কী ভাবে লিঙ্গ বৈষম্যের শিকড় বিস্তার লাভ করে। গত দেড় বছর ধরে এ বিষয়ে তাঁরা স্বতন্ত্র অথবা যৌথ ভাবে বিশদ আলোচনাও করেছেন। সেই ঘটনাবহুল পথ অতিক্রমের মাধ্যমেই সঞ্চিত হয়েছে এই উপলব্ধি।

যেমন বোসপুকুরের সমর বলেন, “একটা নির্দিষ্ট দিনে যখন আমার মেয়ের টিকাকরণের সময়সূচি সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এ ব্যাপারে আমার কতটা খামতি রয়েছে। এই ঘটনা আমাকে সজোরে ধাক্কা দিল। সন্তানের সমস্ত দায়িত্ব স্ত্রীর উপর ছেড়ে দিয়ে আমি ভুল করছিলাম। তার পর থেকে আমার মেয়েকে বড়ো করে তোলার দায়িত্ব আমিও সমান ভাবে পালন করছি।”

এর পর সঙ্গী ১৫ জনকে নিয়ে সমরবাবু গড়ে তোলেন একটি ক্লাব, যা একান্ত ভাবে মহিলাদের জন্য। স্ত্রীর কাজ লাঘব করার জন্য বাবুরাম, সঞ্জয়, বংশী-সহ আরও অনেকেই তখন পারিবারিক কাজে হাত লাগাচ্ছেন।

ক্রিকেট, ফুটবলের মতো জনপ্রিয় খেলায় মহিলাদের আগ্রহ জোগানো যোধপুর পার্কের সঞ্জয় বলেন, বাড়িতে রান্না করা, বাসন মাজা বা জামাকাপড় কাচার মধ্যে পুরুষের কোনো লজ্জাবোধের ব্যাপার নেই। যে কোনো পুরুষই এ কাজ করতে পারেন, অন্যকে উৎসাহিত করতে পারেন। কোনো এক জন পুরুষের লিঙ্গ বৈষম্যমূলক সামাজিক নিয়ম পরিবর্তন সদিচ্ছা এবং চ্যালেঞ্জ অন্যদের অনুপ্রাণিত করা হয়। তিনি বলেন, “আমি ছেলে ও মেয়েদের নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করেছি এবং এই ধরনের ফুটবল ম্যাচের আয়োজনও খুব তাড়াতাড়ি করব।” 

বহরমপুরের গঙ্গা ভবনে চলছে ওই অনুষ্ঠান। শুরু হয়েছে আজ  ১৬ নভেম্বর, চলবে কালও, যেখানে ওই শ-দুয়েক পুরুষ নিজেদের নতুন উপলব্ধির উদ্‌যাপন করছেন। পাশাপাশি চলবে গেম, বিতর্ক, গান এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লিঙ্গবৈষম্য, পুরুষতন্ত্র বা যৌনতা সমন্ধীয় বিষয়গুলির যথাযথ বিশ্লেষণ।

‘লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠার যৌথ উদ্যোগ’ অনুষ্ঠানটির আয়োজক প্রজাক, পরিচিতি, আশা এবং জীবিকা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here