১১ মাসে তিনবার কাঁপল রাঢ় বাংলার মাটি! আশঙ্কায় বিজ্ঞানীরা

এই কম্পনগুলির উৎসস্থল থেকে মাত্র ২০০-২২৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ইয়োসিন হিঞ্জ । ইয়োসিন হিঞ্জ কলকাতার মাত্র ৪ কিলোমিটার নীচ দিয়ে গিয়েছে

0
এই তিন কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল যথাক্রমে ঘাটাল, ছাতনা এবং কাশীপুর।

ওয়েবডেস্ক: ২০১৮-এর ২৮ আগস্ট থেকে ২০১৯-এর ২৯ জুলাই। মাত্র ১১ মাসের মধ্যে তিন বার কেঁপে উঠল রাঢ়বঙ্গের মাটি। ব্যাপারটাকে খুব হালকা ভাবে নিতে পারছেন না ভূতত্ত্ববিদরা। ছোটো ছোটো কম্পন থেকে অদূর ভবিষ্যতে একই অঞ্চলে বড়ো কোনো কম্পন হবে কি না, সেটাই ভাবাচ্ছে বিজ্ঞানীদের।

গত বছর ২৮ আগস্ট এই কম্পনের ধারা শুরু হয়েছিল। সে বার ৫ মাত্রার কম্পনের কেন্দ্রস্থল পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের কাছাকাছি। এর পর গত ২৬ মে, ৪.৭ মাত্রার কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল বাঁকুড়ার ছাতনা। তার দু’ মাস পরেই আবার কম্পন। এ বার উৎসস্থল পুরুলিয়ার কাশীপুর। তিনটে কম্পনের উৎসস্থল একে অপরের থেকে খুব একটা দূরে নয়।

যে অঞ্চলে এই কম্পনগুলি তৈরি হচ্ছে, সেটি কম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবেই পরিচিত। ভূমিকম্পের প্রবণতার নিরিখে যে ম্যাপ রয়েছে, তাতে গোটা পশ্চিমাঞ্চল, ঝাড়খণ্ড এবং লাগোয়া ওড়িশার কিছু অঞ্চল জোন-২-এ পড়ে। অর্থাৎ, এই অঞ্চলগুলিতে ভূমিকম্প তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা সব থেকে কম। অথচ সেই অঞ্চলেই বার বার কম্পন কী ভাবে হচ্ছে? এমনকি গত মাসেই ওড়িশা দেওগড় জেলাতেও একটি কম্পন হয়েছিল। তার মাত্রা চারের কম হলেও, অঞ্চলটা সেই একই হচ্ছে।

এমনিতে যে অঞ্চলে এত কম্পন হচ্ছে সেটা হিমালয়ের কলিশন জোন থেকে অনেকটা দূরে রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের এই অঞ্চল পড়ছে ‘ইন্ট্রা প্লেট’ অর্থাৎ প্লেটের অভ্যন্তরীণ অংশে। ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ইন্ট্রা প্লেটে ভূমিকম্পের প্রবণতা কম থাকারই কথা। কিন্তু তবুও বিজ্ঞানীরা চিন্তিত, কারণ মাত্রাছাড়া উন্নয়নের জন্য এই অঞ্চলে যদি ৬ মাত্রারও কম্পন হয়, তা হলেও তা বড়ো বিপদ ডেকে আনতে পারে।

আরও পড়ুন ফের কাঁপল রাঢ়বঙ্গ, এ বার উৎসস্থল পুরুলিয়া

বিপদ রয়েছে শহর কলকাতার জন্য। কারণ এই কম্পনগুলির উৎসস্থল থেকে মাত্র ২০০-২২৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ইয়োসিন হিঞ্জ । ইয়োসিন হিঞ্জ কলকাতার মাত্র ৪ কিলোমিটার নীচ দিয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ ২৫ কিলোমিটার চওড়া সেই হিঞ্জ জোন কলকাতা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত বিস্তৃত। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বার বার এই ছোটো কম্পনগুলোও ইয়োসিন হিঞ্জে বড়ো ধাক্কা দিতে পারে, যার ফলে এখানে অচিরেই বড়ো ধরনের কম্পন হতে পারে। খড়্গপুর আইআইটির এক বিজ্ঞানীর দাবি, এই ফাটলে সর্বোচ্চ ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। এ ছাড়াও বাংলা জুড়ে রয়েছে ছোটো ছোটো ফাটল। যেমন, ১৯৬৪ সালে পিংলা ফল্টে ৫.৪ মাত্রার কম্পন হয়।

তবে বিজ্ঞানীদের অন্য একটি অংশের দাবি, ভূপৃষ্ঠের নীচে জমে থাকা শক্তি ছোটো ছোটো ভূমিকম্পের আকারে বেরিয়ে যাওয়া এক দিক থেকে মঙ্গলই। তা হলে বড়ো ধরনের কম্পনের আশঙ্কা কমে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার বড়ো ভূমিকম্প হওয়ার আগে ছোটো ছোটো ভূমিকম্প লেগে থাকে। তবে বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা, নিয়ম মেনে বাড়িঘর তৈরি করা না হলে, আপাতদৃষ্টিতে কম শক্তির কম্পনও কলকাতার মতো শহরের ক্ষেত্রে বড়ো ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here