freed klo militants

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: এক অতর্কিত জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছিল এক সিপিএম নেতা সহ পাঁচ জনের। আহত হয়েছিলেন ১১ জন। ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর অভিযুক্ত ৩৩ জন কেএলও জঙ্গি বেকসুর খালাস পেলেন মামলা থেকে। শুক্রবার জলপাইগুড়ি জেলা আদালত তাঁদের এই মামলা থেকে অব্যহতি দেয়। মূলত সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবেই তাঁরা মুক্তি পেলেন, জানাচ্ছেন অভিযুক্তদের আইনজীবীরা। টম অধিকারী, মিল্টন দাস, হর্ষবর্ধন দাস-সহ অভিযুক্ত প্রাক্তন কেএলও-রা সকলেই এ দিন আদালতে হাজির ছিলেন।

২০০২ সালের ১৭ আগস্টের সন্ধ্যা। অন্যান্য দিনের মতোই ধূপগুড়ির সিপিএম জোনাল পার্টি অফিসে নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষের ভিড়। অতর্কিতে সশস্ত্র জঙ্গি হামলা হয়। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ১৬ জন। তাঁদের মধ্যে সিপিএম নেতা গোপাল চাকী, গোঁসাই শীল গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাসপাতালে আহত ১১ জনের মধ্যে পরে সুবোধ রায়, গণেশ রায় এবং দুলাল রায়ের মৃত্যু হয়।

অভিযোগের আঙুল ওঠে কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (কেএলও) দিকে। সেই সময় আলাদা কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে এই জঙ্গি সংগঠনের আন্দোলন ছিল তুঙ্গে। তাদের মূল বিরোধিতা ছিল তৎকালীন বামফ্রণ্ট সরকারের বিরুদ্ধে। তার জেরেই সিপিএম পার্টি অফিসে এই হামলা হয়েছিল বলে দাবি ছিল পুলিশের।

ওই হামলায় ব্যাবহার করা হয়েছিল একে৪৭ রাইফেল এবং পালানোর সময় বোমা ছুড়তে ছুড়তে পালিয়েছিল জঙ্গিরা। পরবর্তীকালে তদন্তে জানা যায়, সাইকেল এবং পায়ে হেঁটে এসে ধূপগুড়ি বাজারে জনবহুল এলাকায় সিপিএম-এর দলীয় দফতর ঘিরে রেখে হামলা চালিয়েছিল তারা। ৩৯ জনের নামে মামলা দায়ের করে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ।

পরবর্তীতে এই মামলার সঙ্গে আরও একাধিক মামলায় গ্রেফতার করা হয় টম অধিকারী, মিল্টন দাস, হর্ষবর্ধন দাস সহ প্রথম সারির কেএলও নেতা ও বেশ কয়েক জন কেএলও জঙ্গিকে। যদিও কেএলও সুপ্রিমো জীবন সিংহ ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এত দিন ধরে জলপাইগুড়ি আদলতে মামলা চলছিল। জলপাইগুড়ির তাবড় তাবড় আইনজীবীরা অভিযুক্তদের হয়ে সওয়াল করেন। যাঁদের মধ্যে ছিলেন শুভ্রাংশু চাকী, অভিজিৎ সরকার, দীপক দত্ত। এ দিন আইনজীবী অভিজিৎ সরকার জানিয়েছেন, এত দিনেও পুলিশ এই ঘটনায় যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি। তাই এই মামলায় অভিযুক্ত ৩৩ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন জেলা আদালতের বিচারক সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।

মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে টম অধিকারী, মিল্টন দাসদের মতো প্রাক্তন কেএলও জঙ্গীরা জানিয়েছেন, তৎকালীন বাম সরকার তাঁদের যে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে ছিল তা আজ প্রমাণ হয়ে গেল।

যদিও এখনই হাল ছেড়ে দিতে নারাজ সিপিএম-এর জলপাইগুড়ি জেলা নেতৃত্ব। দলের জেলা সম্পাদক সলিল আচার্য জানিয়েছেন, তাঁরা উচ্চ আদালতে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। আজকের রায়ের নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here