স্কুলের ভগ্নদশা। নিজস্ব চিত্র

দঃ ২৪ পরগনা : শতাব্দী প্রাচীন স্কুল। স্কুলকে আঁকড়ে ধরেছে শতাব্দীর জীর্ণদশা। বর্ষায় ছাদ থেকে চুঁইয়ে পড়ছে জল। কখনও ভেঙে পড়ছে প্যালেস্তরা। কিছুদিন আগেই লোহার হুক সহ ফ্যান ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। আর একটু বেশি বৃষ্টি হয়ে জল থইথই ক্লাসরুম। বৃষ্টির জন্য বাধ্য হয়ে স্কুল ছুটি দেওয়া হয়েছে। সোনারপুরের বৈকুণ্ঠপুর নিম্ন বুনিয়াদী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের।

ব্রিটিশ আমলে ১৯১৭ সালে তৈরি হয় এই স্কুল। তারপর থেকে স্কুল সংস্কারে হাত পড়েনি বললেই চলে। বর্তমানে স্কুলের বিল্ডিং-এর ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ। জায়গায় জায়গায় ভেঙে পড়ছে চাঙড়। মাঝেমধ্যে ফ্যান খুলে পড়ে আহত হয়েছেন ছাত্র ও শিক্ষক।

প্রতিবছর বর্ষাকালে সমস্যায় ভুগতে হয় ছাত্র ও শিক্ষকদের। এবারও বর্ষায় ছুটি দিতে হয়েছে। সামনেই পরীক্ষা।

ভেঙে পড়ছে চাঙড়। নিজস্ব চিত্র

সোনারপুর মোড় থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দুরত্বে এই স্কুলে মোট ৩৪২ জন পড়ুয়া। স্কুলে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস হয়। শিক্ষকের সংখ্যা ১৩ জন।

স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এস আই কে জানিয়েই ছাত্রদের নিরাপত্তার স্বার্থে ছুটি দেওয়া হয়েছে স্কুলে। সামনেই পরীক্ষা ৷ তারপরেও স্কুলে আসতে না পারায় সমস্যায় ছাত্রছাত্রীরাও ৷ শিক্ষকরা নিয়ম মেনে রোজ আসলেও আতঙ্কের মধ্যেই স্কুলঘরে রোজ বসতে হয় তাদের ৷

ভেঙে পড়া পাখা। নিজস্ব চিত্র

স্কুল বিল্ডিং ভাঙার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু নতুন বিল্ডিং তৈরির পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় ভাঙার কাজে হাত দিতে পারা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষকেরা।

আরও পড়ুন : ভাঙা ছাদ দিয়ে পড়ছে জল, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পঠনপাঠন রাইপুরের স্কুলে

বিগত চার বছর ধরে স্কুল শিক্ষাদফতরের বিভিন্ন জায়গায় জানানো হয়েছে ৷ একাধিকবার আধিকারিকরা পরিদর্শনও করেছেন ৷ এই ব্যাপারে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সাথে দেখা করা হলেও তারা কিছু বলতে চাননি ৷ তবে বিষয়টি উপর মহলের সকলেই জানেন বলেই জানানো হয়েছে ৷

school-sonarpur
নিজস্ব চিত্র

চলতি সপ্তাহে পুরো স্কুল ছুটি দিতে হয়েছে ৷ আবহাওয়ার উন্নতি না হলে এই অবস্থা যে চলতে থাকবে তা শিক্ষক শিক্ষিকার হা-হুতাশেই পরিষ্কার ৷

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here