genie

ওয়েবডেস্ক: আরব্য রজনী জানাচ্ছে, তার যুগে না কি ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো সব-ই রাখা যেত বোতলবন্দি করে। কিন্তু এই সময়টা তো আরব্য রজনীর নয়। তা-ও বোতলবন্দি ভূতকে দিয়ে ফরমায়েস পালন করানোর লোভে লোক ঠকানোর ফাঁদে পা দিলেন বাগুইআটির তাপস রায়চৌধুরী।

বর্ধমান পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাপস রায়চৌধুরীর এক বর্ধমানবাসী বন্ধু সম্প্রতি তাঁকে বোতলবন্দি ভূতের কথা জানান। ওই বন্ধু দাবি করেন যে যার কাছে ওটা রয়েছে, সে টাকার বিনিময়ে ভূত বিক্রিতে রাজি আছে। সব কথা শোনার পরে তাপস রায়চৌধুরী পরামর্শ চাইতে যান ঘনিষ্ঠ বন্ধু বাসুদেব কুণ্ডুর কাছে। এ-কথা, সে-কথার পরে ঠিক হয়- তাপস রায়চৌধুরী বর্ধমানে গিয়ে ঘটনাটা দেখে আসবেন।

কথা মতো শনিবার তিনি বর্ধমানেও যান। স্টেশন থেকে তাঁকে সঙ্গ দেয় ওই বর্ধমানবাসী বন্ধু। এর পর উল্লাস মোড় থেকে পুলিশের স্টিকার লাগানো এক গাড়ি করে তাঁরা একটি হোটেলে এসে ওঠেন। জানা গিয়েছে, বর্ধমান পুলিশের এক গাড়িচালকও জড়িত ছিল এই চক্রে, সে-ই গাড়ি চালিয়ে হোটেলে আসে।

হোটেলের ঘরে আরও দুই ব্যক্তি অপেক্ষা করছিল তাপস রায়চৌধুরীর জন্য। ওই চার জন তাঁর হাতে একটা কোল্ডড্রিঙ্কসের বোতল ধরিয়ে দেয়। যার ভিতরে একটা এক টাকার কয়েন ফেলা ছিল। বোতলটা দিয়ে ওই চার জন তাপস রায়চৌধুরীর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে। তিনি যখন সঙ্গে টাকা নিয়ে আসেননি জানান, তখন শুরু হয় বেধড়ক মারধর। এর পর সঙ্গে যা কিছু ছিল, কেড়ে নিয়ে চম্পট দেয় ওই ৪ জন!

হোটেল থেকে বেরিয়েই এর পর বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাপস রায়চৌধুরী। ঘটনার সঙ্গে পুলিশের গাড়িচালক জড়িত থাকায় তাকে খুঁজে বের করাও সহজ হয়। তার সূত্রে খোঁজ মেলে বাকি তিন জনেরও। তাদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ধমান পুলিশ।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন