বেশির ভাগ শ্রমিকই গরহাজির, ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘটে কাজ ব্যাহত উত্তরের চা বাগানে

0
375

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : ফের অশনি সংকেত চা শিল্পে। ন্যূনতম মজুরির দাবিতে জয়েন্ট ফোরামের ডাকা চা শিল্পে ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘট সোমবার শুরু হল জলপাইগুড়ি-সহ উত্তরের চা বলয়ে। জয়েন্ট ফোরাম নেতৃত্বের দাবি ধর্মঘট সম্পূর্ণ সফল। যদিও এই ধর্মঘটের বিরোধিতায় নেমেছে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন। তাদের দাবি বেশ কিছু চা বাগানে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে গেলেও ধর্মঘটকারীদের বাধা ও হুমকির মুখে পড়ে কাজে যোগ দিতে পারেননি। তবে সূত্রের খবর, কয়েকটি চা বাগানে গুটিকয়েক তৃণমূলপন্থী শ্রমিক কাজে দিলেও ৯৮% শ্রমিক কাজ করেননি।

জয়েণ্ট ফোরাম নেতৃত্বের দাবি, কোথাও কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। পেটের তাগিদে শ্রমিকরা নিজেরাই স্বতর্স্ফুর্ত ভাবে ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন। ধর্মঘটে অবাঞ্জিত ঘটনা রুখতে ব্যাপক পুলিশি ব্যবস্থা করা হয়েছে চা-বাগানগুলিতে। জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন করলাভ্যালি চা বাগানে ধর্মঘটকে ঘিরে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ কোতোয়ালি থানার পুলিশ আন্দোলনকারীদের ফ্ল্যাগ ছিঁড়ে ফেলে জোর করে চা কারখানা খুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর পরেই পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। তবে পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। ধর্মঘটের সমর্থনে প্রচার চালানোর অভিযোগে ৪ জনকে আটক করে কোতোয়ালি থানা, যদিও পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই রকম দু’ একটি ঘটনা ছাড়া সোমবার ধর্মঘট শান্তিপূর্ণই ছিল। তরাই এবং ডুয়ার্সের ১১টি চা বাগানে সামান্য সংখ্যক শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছিলেন বলে খবর।

জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং মিলিয়ে চা বাগানের সংখ্যা ২৭৬। এ ছাড়াও উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর এবং কোচবিহারের মেখলিগঞ্জেও বেশ কিছু চা বাগান রয়েছে। এর ওপর নির্ভরশীল প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ শ্রমিক। এর আগেও ন্যূনতম মজুরির দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলন করেছিলেন চা শ্রমিকরা। ২০১৪ সালে তিন বছরের জন্য শেষ মজুরি চুক্তি হয়েছিল চা বাগানগুলিতে। সেই চুক্তি অনু্যায়ী চা শ্রমিকরা এখন ১৩২.৫০ টাকা মজুরি পান।

চলতি বছরের মার্চ মাসে এই মজুরি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তার পর থেকেই শ্রমিকরা দাবি করে আসছেন মজুরির পরিমাণ বাড়াতে হবে। শুধু তা-ই নয়, শ্রম আইন অনুযায়ী চা-শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ঠিক করতে হবে। এই নিয়ে পর পর ৬টি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে চা শ্রমিকসংগঠন, মালিকপক্ষ এবং সরকারপক্ষের মধ্যে। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, মালিকপক্ষ তাদের দাবি অনু্যায়ী মজুরি বাড়াতে নারাজ। রাজ্য সরকারও এই ব্যাপারে উদাসীন বলে অভিযোগ তাদের। এ ছাড়াও বন্ধ বাগান খোলা, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বাসস্থান-সহ আরও বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে জয়েণ্ট ফোরাম।

এই সব দাবি নিয়ে পর পর ৬টি বৈঠকেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ২৪টি শ্রমিক সংগঠনের যৌথমঞ্চ ১২ এবং ১৩ জুন চা-শিল্পে ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘটের ডাক দেয়। পাশাপাশি ১৩ জুন মঙ্গলবার ১২ ঘণ্টা সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে উত্তরের চা-বলয়ে। একমাত্র তৃণমূল প্রভাবিত চা শ্রমিক সংগঠনগুলি এই ধর্মঘটে শামিল হয়নি। আইএনটিটিইউসি’র জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি মিঠু মোহন্তর বক্তব্য, রাজ্য সরকার যখন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন, তখন এই ধর্মঘট অযৌক্তিক।

এ দিকে চা বাগানমালিকদের দাবি, টানা দু’ দিনের ধর্মঘটের ফলে চা-শিল্পের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। বাগানমালিকদের সংগঠন ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর উত্তরবঙ্গ শাখার উপদেষ্টা অমিতাংশু চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। রাজ্য শ্রম দফতরের পক্ষ থেকে চলতি মাসেই ফের একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

যদিও নিজেদের অবস্থানে অনড় জয়েণ্ট ফোরাম। আগামী কাল চা-শিল্পে ধর্মঘটের পাশাপাশি চলবে সাধারণ ধর্মঘটও। জয়েণ্ট ফোরামের মুখপাত্র জিয়াউল আলমের অভিযোগ, আলোচনার নামে প্রহসন হচ্ছে। শ্রমিকদের অভাব-অভিযোগ শুনতে রাজি নয় বাগানমালিকরা বা সরকার, অভিযোগ তাঁর।

এখন এই ঠান্ডা যুদ্ধের আবহে চা শিল্পের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা নিয়ে দোলাচলে উত্তরের চা বলয়। কারণ শুধু চা শ্রমিকরা নন, উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল এই চা শিল্পের ওপর।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here