৫ দিন পরেও কাটল না জটিলতা, সমস্যায় কলেজ স্ট্রিটের বইবিক্রেতারা

0

নোট সমস্যায় জেরবার বাজার। এবার সেই ধাক্কা এসে পড়ল কলেজ স্ট্রিট বইপাড়ায়। ব্যাঙ্ক চালু হওয়ার পর থেকে এ ক’দিনে প্রায় বেশির ভাগ দোকানে বিক্রি হল মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার বই। স্বাভাবিক ভাবেই মাথায় হাত কলেজ স্ট্রিট বইপাড়ার বইবিক্রেতাদের। শুধু বইবিক্রেতা নয়, সমস্যায় পড়েছেন ছাত্রছাত্রীরাও।

পড়ুয়া ও তাঁদের বাড়ির লোকেদের ভিড়ে সাধারণত কলেজ স্ট্রিটের ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায় না। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের ৫০০ ও ১০০০ টাকা নোট বাতিল ঘোষণা করার পরেই পাল্টে গেছে গোটা চিত্রটা।

বইবিক্রেতারা জানাচ্ছেন, পকেটে টান পড়েছে সাধারণ মানুষের। তার উপর গোদের উপর বিষফোঁড়া ২০০০ টাকার নোট খুচরো করা। ক্রেতারা ২৫০ টাকা বই কিনে দিচ্ছেন ২০০০ টাকার নোট। ফলে মন্দার বাজারে খুচরো করে দেওয়া মোটেই সম্ভব হচ্ছে না।

সারা কলেজ স্ট্রিটে বর্তমানে ১০০০ থেকে ১১০০টি বই-দোকান রয়েছে। কিন্তু এখন যেন অঘোষিত বন্ধের চেহারা নিয়েছে এলাকা। সারি সারি দোকান খোলা। কিন্তু, কোনো ক্রেতা নেই।

এশিয়ান বুক স্টলের মালিক জয়ন্ত দেবনাথ জানান, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। কিন্তু এমন কোনো দিন হয়নি, যে দিনে মাত্র ৪০০ টাকার বইও বিক্রি হয়নি।

নাথ বুক স্টলের মালিক তপন দেবনাথ জানান, কেউ পুরোনো নোট নিয়ে আসছেন, তো কেউ ২০০০-এর নোট। উভয় ক্ষেত্রেই তৈরি হচ্ছে সমস্যা। আর এর ফলেই প্রচুর ক্রেতাকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এর ফলে চা-বিস্কুটের পয়সাটুকু ছাড়া কিছুই আয় হচ্ছে না।

দুই পরুষের ব্যবসা। একটি ছোটো বইয়ের দোকানের মালিক সুমন গুপ্ত বলেন, এই অবস্থার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। দু’দিনে ১৫০ টাকার বেশি বিক্রি হয়নি। এমন চলতে থাকলে তাঁরা সমস্যায় পড়বেন। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে সকলের ক্ষতি হচ্ছে। যদি ২০০০ হাজারের সঙ্গে ১০০ আর ৫০০ টাকার নোটও সম পরিমাণে বাজারে ছাড়া হত, তা হলে এত সমস্যায় পড়তে হত না।

স্বাভাবিক ভাবেই সমস্যা ছুঁয়েছে ছাত্রছাত্রীদেরও। নার্সিং-এর প্রথম বর্ষের ছাত্রী রিয়া সাহা জানান, বাড়ি রানাঘাটে, কলকাতায় হোস্টেলে থাকেন। হঠাৎ করে এই ঘোষণা করার ফলে টাকার সমস্যায় পড়ে যান। বইয়ের দরকার। কিন্তু বই কিনতে পারছেন না। এমনকি এ মাসে পাঁচ হাজার টাকা ড্রেসের জন্য দিতে হয়েছিল। কিন্তু নোট বাতিল হওয়ার জন্য সে টাকাও ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে চরম আর্থিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। নোট তুলতে গেলে সমস্যা। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে দেরি হয়ে যাচ্ছে, যা তাঁর হোস্টেলের নিয়ম-বহির্ভূত।

কার্ড ব্যবহার করে বই-এর দাম মেটানোর সুবিধে বড়ো বই-এর দোকানগুলোতে থাকলেও লিঙ্ক সমস্যা লেগেই আছে। তবে সব কিছু ঠিক থাকলে কার্ডের মাধ্যমেও ক্রেতারা বই কিনতে পারবেন বলে জানান দেজ পাবলিকেশন-সহ বেশ কিছু বড়ো বইয়ের দোকান-মালিকরা। তবে নোট সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন বলে জানান প্রায় সকলেই।  

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন