বছর বছর চোখের সামনে তাঁর তুলনায় অনেক নবীনকে তাঁদের প্রাপ্য সম্মান পেতে দেখে আনন্দ যেমন হয়, তেমন বেদনায় মন ভারও হয়ে যায়। হতাশ লাগে, যে শুধু প্রমাণ নেই বলে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেও পাওয়া গেল না নিজের প্রাপ্য সম্মানটুকু।

১৯১৮ সালের ২২ এপ্রিল অধুনা বাংলাদেশের সিরাজদিঘা থানার মানবদিয়া গ্রামে  জন্ম অক্ষয়কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বহু বার ছদ্ম নামে জেল খেটেছেন তিনি। অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড, হলঅয়েল মনুমেন্ট ভেঙে দেওয়ার বিরুদ্ধে নেতাজির আদর্শে পলাশির আমবাগানে শপথ নেওয়া, ব্রিটিশদের অত্যাচার – এই সব ঘটনাই আজও তাঁর স্মৃতিতে টাটকা। অথচ সেই সবের প্রমাণ দেখাতে পারলেন না বলে প্রবীণ এই দেশসেবক বঞ্চিত রয়েছেন তাঁর প্রাপ্য থেকে।  

৭০তম স্বাধীনতা দিবসের দিনে তাঁর সেই বুকভরা দুঃখের কথা উজাড় করে জানালেন খবর অনলাইনকে। ও দেশ ছেড়েছেন বহু দিন হয়ে গেছে। এখন তিনি উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৫০ সালে রামকৃষ্ণ অভেদানন্দ বালকাশ্রমে সামান্য বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেন। স্ত্রী আর ছয় সন্তানকে নিয়ে চালিয়ে যান কঠোর জীবনসংগ্রাম। পেট চালাতে অবসরের পর ১৯৮৪ সালে এসডিও-র অফিসে আবার কাজ নেন। বর্তমানে সামান্য ক’টা পেনশনের টাকায় এক মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে কোনও রকমে দিন গুজরান হয় তাঁর।

freedom-fighter-2

৯৮ পেরিয়ে এই মানুষটির স্বাধীনতাসংগ্রামীর সম্মান বলতে স্বাধীনতা দিবসে পাড়ায় পতাকা তোলা। এ ছাড়া সরকারি কোনও সম্মানই জোটেনি অক্ষয়বাবুর। স্বাধীনতার পর কেটে গেছে ৭০টা বছর। অথচ খালি প্রমাণের অভাবের জন্য ডান, বাম কোনও সরকারই তাঁর আবেদনে সাড়া দেয়নি।

শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়ানো এই বৃদ্ধ অবশ্য আশা ছাড়েননি। চার বার রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন, গেছেন হাইকোর্টেও। আশা রাখেন, মৃত্যুর আগে মিলে যাবে বাকি দু’আনা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here