নিজে থাকেন চালা ঘরে, অমিতাভ-আমিরের নামে সুন্দরবনে কলেজ গড়ছেন ট্যাক্সিচালক

0
Taxi

ওয়েবডেস্ক: বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন এবং আমির খানের নামে কলেজ গড়ছেন সুন্দরবনের ৭২ বছরের ট্যাক্সিচালক গাজিসাহেব। তিনি নিজে থাকেন বাঁশ-টালির চালা ঘরে। কিন্তু নিজের সঞ্চয়ের টাকায় ইতিমধ্যেই তৈরি করে ফেলেছেন তিনটি স্কুল। এ বার তাঁর লক্ষ্য কলেজ নির্মাণ। কে এই গাজিসাহেব?

পুরনো স্মৃতি ঘেঁটে তিনি জানিয়েছেন, দক্ষিণ বারাসতের উত্তর-পূর্ব ঠাকুরচক এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামে তাঁর জন্ম। শৈশবে বাবা-মা এবং চার ভাইয়ের সংসারে অভাব ছিল প্রকট। ফলে পড়াশোনা করার ইচ্ছা এবং মেধা থাকলেও লেখাপড়া ওই ক্লাস টু পর্যন্ত। এমনকী ক্লাস টু-তে তিনি প্রথমও হয়েছিলেন। কিন্তু তার পরেই শিক্ষাজীবনে ইতি। স্কুল ছাড়তে হয় তাঁকে।

এর পরই অভাবকে সঙ্গী করে কাজের আশায নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পাড়ি দেন কলকাতায়। ওঠেন ফুলবাগান এলাকার ফুটপাথ। প্রথমে কাজ জোটেনি, ওই বয়সের একই পরিস্থিতির আর পাঁচ জনের মতোই তাঁকেও বেছে নিতে হয় ভিক্ষাবৃত্তি। বয়স বাড়লে এন্টালি এলাকায় রিকশা চালাতেন। রিকশা চালানোর সময়েই তিনি শিখে নেন ট্যাক্সি চালানো। তখন থেকেই তিনি ট্যাক্সি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, আর নিজে সাদামাটা ভাবে জীবন কাটিয়ে সঞ্চয়ের টাকায় সুযোগ করে দিচ্ছেন গরিব মেধাবী শিশুদের।

নিজে অর্থের অভাবে পড়াশোনা করতে পারেননি। তাই গরিব-অনাথ শিশুদের পড়াশোনার একটা দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়ে বানিয়েছেন স্কুল। এ বার অমিতাভ এবং আমিরের নামের আদ্যক্ষর নিয়ে তৈরি করছেন ‘সুন্দরবন এ এ কলেজ’। কিন্তু কেন বেছে বেছে অমিতাভ-আমির?

গত বছর অক্টোবর মাসে জনপ্রিয় টিভি শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র বিশেষ পর্ব ‘কর্মবীর’-এ অংশ নিতে দেখা যায় গাজিসাহেবকে। তিনি শুরুতেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, একটা প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারেবনা না তিনি। যে কারণে তাঁর হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন আমির খান। তাঁর অভিনীত ‘ঠগস অব হিন্দোস্তান‘ ছবির প্রচার চলছিল সে সময়।

গাজিসাহেবের হয়ে উত্তর দিয়ে আমির জিতে নেন ২৫ লক্ষ টাকা। একই সঙ্গে অমিতাভও তাঁকে দেন ২১ লক্ষ টাকা। এ বার তাঁদের উদ্দেশে সম্মান জানিয়েই তাঁদের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে কলেজ গড়ছেন তিনি। জানা গিয়েছে, তাঁর তৈরি তিনটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের বাংলা, হিন্দি, উর্দু এবং অঙ্ক পড়ানো হয়। পাশাপাশি অসহায়-দুঃস্থদের কম্পিউটার, টেলারিং এবং জরির কাজের শিক্ষাও দেওয়া হয় সেখানে। ২৬ জন শিক্ষক শিক্ষাদান করেন সেই স্কুলগুলিতে।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.