উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জৈব সারে চাষ করে দেশের মধ্যে সেরা সম্মান ছিনিয়ে নিলেন সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমার দিগম্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রামনগর আবাদ গ্রামের গৃহবধূ জয়ন্তী দলুই।

রাসায়নিক সার বর্জন করে সম্পূর্ণ ভাবে নিজের হাতে তৈরি জৈব সার তৈরি করেছেন জয়ন্তীদেবী। সেই জৈব সারে বাংলার এই গৃহবধূ মুগকড়াই চাষ করে দেশের মধ্যে নজির গড়লেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী নরেন্দ্র সিংহ তাঁর হাতে তুলে দেন ‘কৃষিকর্মণ’ পুরস্কার স্বরূপ একটি মানপত্র ও দুই লক্ষ টাকার চেক।

পুরস্কার পাওয়ার পর জয়ন্তীদেবী বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল জৈব সার দিয়ে চাষ করার। সেই লক্ষেই ‘নিমগোল্ড’ নামের একটি জৈব সার দিয়ে চাষ শুরু করি।পরে সমবায় সমিতি থেকে জৈব সার তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের হাতেই ওই সার তৈরি শুরু করে দিই। তবে আমার নিজের কোনো জমি নেই। তাই সমবায় সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষ করি”।

তবে তিনি যে দেশব্যাপী জৈব সারে ব্যবহারের বিপ্লবে এত বড়ো সম্মান পাবেন, তা ভাবতে পারেননি। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে বাংলার বহু জায়গায় জৈব সারে চাষ হতো। মাঝে রাসায়নিক সার বাজারকে গ্রাস করে ফেলে। এখন আবার রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় জৈব সারে চাষের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। জৈব সারে চাষ করা ফসল অনেক বেশি সুস্বাদু এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণও করা যায়। মাটির কার্যকারিতাকে দ্রুততার সঙ্গে বাড়াতে সাহায্য করে এই সার।

জয়ন্তীদেবী বলেন, “আমি চাই প্রত্যেকেই জৈব সারে চাষ করুক”। তাঁর এই সম্মানপ্রাপ্তিতে খুশি গোটা সুন্দরবনের মানুষ।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন