ছন্দপতন তৃতীয় দফায়! মুর্শিদাবাদে ছেলের সামনেই খুন হলেন কংগ্রেস কর্মী

0
টিয়ারুলের ছেলে মহতাব

ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদে ভগবানগোলার রানিতলা বালিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৮৮ নম্বর বুথের লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাণ গেল এক কংগ্রেস কর্মীর। মৃতের নাম আবদুল কালাম টিয়ারুল শেখ। এ বারের ভোটে নতুন ভোটার ছেলে মহতাব শেখের সামনেই খুন করা হয় তাঁকে। মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস প্রার্থী আবু হেনা দাবি করেছেন, নিহত টিয়ারুল এক জন কংগ্রেস কর্মী। কিন্তু নিহতের পরিবারের দাবি, টিয়ারুল কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি একজন সাধারণ ভোটার মাত্র।

আগের দু’টিতে বিক্ষিপ্ত গন্ডগোল ঘটলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা দেখেনি রাজ্য। কিন্তু তৃতীয় দফায় এসে ছন্দপতন ঘটল তাতে। টিয়ারুলের আত্মীয়-পরিজনদের দাবি, ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। সে সময় কংগ্রেস-তৃণমূল সংঘর্ষ বাঁধে। লাঠি এবং বাঁশ নিয়ে দু’পক্ষ একে অপরের উপর চড়াও হয়। সেই সংঘর্ষের মাঝে পড়ে যাওয়া টিয়ারুলকে প্রাণ হারাতে হয়।

কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোট দিতে যাচ্ছিলেন টিয়ারুল। আর তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা ওই ব্যাক্তির উপর আক্রমণ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর পেট চিরে দেয় বলে অভিযোগ। তৎক্ষণাৎ তাঁকে রানিনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা ওই টিয়ারুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

টিয়ারুলকে জড়িয়ে ধরে তাঁর ছেলে

জানা গিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়েই জেলা প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন। অন্য দিকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে সরাসরি অভিযোগ জানাতে চলেছে কংগ্রেস।

দুই প্রত্যক্ষদর্শী মহিলা সংবাদ মাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, “সব কিছু দেখেও এগিয়ে আসেনি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশ এবং আধাসেনা গন্ডগোল দেখে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়”।

টিয়ারুলের ভাইয়ের দাবি, “বুথের সামনে অস্ত্র নিয়ে দাপাচ্ছিল তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা, সে সময় সেখানে পুলিশ ছিল না। যদিও এমন অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল”। অন্য দিকে মুর্শিদাবাদের তৃণমূল প্রার্থী আবু তাহের অভিযোগ করে বলেছেন, “ঘটনাটি ঘটেছে বুথের একেবারে সামনে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল তার জবাবদিহি করতে হবে। কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপি এক হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here