নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শুনলে আশ্চর্য লাগবে। গত ৩ বছর ধরে গরিব পাত্রপাত্রীদের জন্য গণবিবাহের আয়োজন করে আসছেন আয়োজকরা। রবিবারও বর্ধমানের কনকালেশ্বর কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এক সঙ্গে ৪২ জোড়া পাত্রপাত্রীকে নিজেদের বৈবাহিক জীবন শুরু করার ব্যবস্থা করে দিলেন খোকন দাস ও মানিক দাস। বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল সকল স্তরের মানুষের সাহায্য চেয়ে।

কাঞ্চন নগরের কালী মন্দিরে ১০১ জন পাত্রপাত্রীর  ব্যবস্থা থাকলেও ৮৪ জনের পরিবার যোগাযোগ করে আয়োজকদের সাথে। তাঁদের মধ্যে ২টি মুসলিম ও ৪০টি হিন্দু পাত্রপাত্রীর বিয়ের  সমস্ত ব্যবস্থা করেন তাঁরা। স্থানীয় বরকনে ছাড়াও ছাড়াও আসানসোল,  শ্রীরামপুর,  রিষরা,  হাওড়া,  হুগলি,  বাঁকুড়া সহ বিভিন্ন জেলা থেকে বরকনেরা বিয়ে করতে এসেছিলেন।

বিয়ের সমস্ত খরচ জোগার করেন আয়োজকরাই।  এই ৪২জন পাত্রীর প্রত্যেককে দেওয়া হয় সোনার কানের দুল,  সাজপোশাক, বেনারসি,  ৫টি শাড়ি।  পাত্রের জন্য ছিলো সোনার আংটি,  বর পোশাক,  সাইকেল,  হাতঘড়ি। শুধু তাই নয়  ৪২টি নতুন পরিবারের জন্য  এলইডি টিভি,  স্টিলের আলমারি,  খাট,  আলনা,  বালতি,  সেলাই মেশিন-সহ এক মাসের সংসার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যও। এমনকি সকলের জন্য ৭৫ হাজার টাকা করে  এল আই সি সুরক্ষা।

গোটা অনুষ্ঠানের জন্য  ৩ মাস ধরে কাজ করেছেন কাঞ্চন নগরের স্থানীয় মানুষ ও আয়োজকরা।  বিশাল মণ্ডপ করা হয় ছাদনাতলার পাত্রপাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী।  ৫ হাজার মানুষের জন্য ছিল ভোজের ব্যবস্থা। মেনুতে ছিলো  দেশিবিদেশি নিরামিষ খাবার।

বরকনেদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ,  পুলিশ সুপার কুনাল আগরওয়াল  সহ  একাধিক বিশিষ্ট মানুষ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here