পায়েল সামন্ত[/caption] বলা হয়, সঙ্গীতকে কোনও দেশ-কাল-জাতির সীমানা আটকে রাখতে পারে না। তাই সঙ্গীত নাকি এক গণ্ডিতে বেঁধে রাখা অসম্ভব। কিন্তু কথা যদি কিশোর কুমারের হয়? তাহলে সঙ্গীতের বিশ্বজনীনতার কথা ভেবে বাঙালিরা কি উদাসীন থাকতে পারে? নিজেদের আঙ্গিনায় তাঁকে বেঁধে রাখার কি ব্যপক চেষ্টাই না চলে তখন! তিনি নিছক আভাসকুমার গঙ্গোপাধ্যায় বলেই এই চেষ্টা নয়। বরং সুর, অভিনয়, সর্বোপরি কণ্ঠের জাদুতে তিনি আসমুদ্র হিমাচল জয় করেছেন, সঙ্গীতের বেতাজ বাদশা হয়েছেন। তাই তাঁকে ঘরের মানুষ ভেবে বাঙালিদের আনন্দ, উৎসবের আয়োজন কখনই বাহুল্য বলে মনে হয় না, সবটাই ‘সুহানা সফর’ মনে হয়। অন্তত ৩ আগস্ট সন্ধে সাড়ে ছটায় উত্তম মঞ্চে মিউজিক বাংলা আয়োজিত অনুষ্ঠানে তারই প্রতিফলন দেখা গেল। বেঁচে থাকলে আজ তাঁর ৮৯ তম জন্মদিন হত। বাংলা বা হিন্দিগানের অগণিত মুগ্ধ শ্রোতা জন্মদিনের প্রাক্কালে হাজির হয়েছিলেন কিশোর কুমারকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে। আরও পড়ুন: এমারজেন্সির সময় ইন্দিরা গান্ধীর বিরোধিতা করে আকাশবাণীতে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন কিশোর কুমার ‘সঙ্গীতের সোনালি যুগের শেষ প্রতিনিধি’ ছিলেন তিনিই। অন্তত এমনটাই মনে করতেন সুরকার পঞ্চম ওরফে রাহুল দেব বর্মন। তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে কিশোর শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন কালজয়ী সব গান। ১৯৬৫ সালে কিশোর আর আরডির গানের সেই সফর শুরু হয়েছিল। কিশোরের কন্ঠে রাহুলের সুর মিলে তৈরি সেই সব গান তখনকার সময়ের থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল। যে কারণে এই জুটি আজকের যুগেও এত জনপ্রিয়। আবার এই জুটির গানে ধর্মেন্দ্র, রাজেশ খান্না, অমিতাভ বচ্চন সকলেই লিপ দিয়েছেন। এসব আর নতুন কথা নয়, সুররসিক মাত্রেই সব জানেন। কিন্তু তবুও কিছু অজানা থেকে যায়। সুরের অতলে তলিয়েও যার হদিশ মেলে না। সে সব মণি-মুক্তো খুঁজে পাওয়া গেল ৩রা আগস্টের সন্ধ্যায়। আসলে কিশোর-রাহুল জুটির বহু অপ্রকাশিত গান যা রেকর্ড হয়েছে, অথচ শ্রোতাদের গোচরে আসেনি, সেগুলো নতুন করে একালের নবাগত শিল্পীদের কন্ঠে ফিরে শোনা গেল। অচেনা গানের পাশাপাশি বহু চেনা গানের সম্ভার নিয়ে হাজির ছিলেন সুজয় ভৌমিক, সৌরভ দাস, সিসপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়, আবির সেন, তৃষা, সৃজিত ও মুনমুন রায়েরা। শোনা গেল মুক্তি না পাওয়া বহু ছবির গান। তেমনই একটি ছবি ‘জীবন মুক্তি’। ‘ফুলোঁ কে দেশ মে বাহার লে কে আয়ি…’। গানটা শুনে চেনা লাগলে সঙ্গীতায়োজক দেবজিৎ রায় জানালেন, “বাংলায় এই একই সুরে একটি গান আছে বৈকি! দেখো গো এনেছি টাঙাইল শাড়ি।” হঠাৎ এই ধরনের গানের আয়োজন কেন? খবর অনলাইনকে দেবজিৎবাবু জানালেন, “কিশোর ও রাহুল বহু কালজয়ী কাজ করেছেন। আর যে সব গান জনসমক্ষে পৌঁছয়নি, সেগুলোও যে একইরকম কালজয়ী হওয়ার মতোই— সেই বার্তাটা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলাম। অমিত কুমারের সঙ্গে কাজ করার সুবাদে ওই বাড়িতেও অবাধ যাতায়াত ছিল। ফলে এই গানগুলো খুঁজে পেতে অসুবিধে হয়নি। সুদীপ্ত চন্দ্র এই গবেষণায় সাহায্য করেছেন।” অনুষ্ঠানে গুলজারের লেখা এবং কিশোর-লতার গাওয়া ‘ক্যায়সে দেঁখু মেরি আঁখো কে বহুত পাস হো তুম’ গানটির কথা বলা যেতে পারে। বলা যেতে পারে, কিশোরের ‘ফুলোঁ কে দেশ মে’, ‘বহুত রাত হুয়ি’ এরকম বহু উল্লেখযোগ্য গানের কথা যা আগে শোনা হয়নি। শোনা গেল কিশোর–আশার ‘ফুলোঁ কি জুবান’ গানটা প্রকাশ্যে আসেনি বটে, কিন্তু বাঙালি মাত্রেই এ গান শুনে বলে দিতে পারবে ‘ফুলে গন্ধ নেই, সে তো ভাবতেও পারি না’ গানটির কথা। উপস্থাপক শ্যাম সরকার, দেবরাজ ঘোষের সৌজন্যে মঞ্চের পর্দায় স্মৃতিতে জড়ানো বহু কালজয়ী প্লেব্যাক গানের ছবিকে দেখা গেল। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় আকাশবাণীর দেবাশিস বসুকে পাওয়াটা যেন শ্রোতাদের বাড়তি পাওনা। নতুনদের গান যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। তাঁদের মধ্যে তৃষা, সুজয় ভৌমিকের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। রাহুল দেববর্মনের গায়কীতে সুজয়ের দখল বেশ পরিণত, সুজয়ের কন্ঠে ‘নদীর ওপারে উঠছে ধুঁয়া’ গানটি মন কাড়ে। সুরকার দেবজিৎ রায় নতুন শিল্পীদের গান জনসমক্ষে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। বাংলা গানকে বাঁচাতে এরাই যে একদিন হাল ধরবে, সে কথা তিনি খবর অনলাইনকে বেশ জোর গলাতেই জানালেন। ছবি: লেখক [gallery td_select_gallery_slide="slide" ids="45800,45801,45802,45803,45804,45805"]]]>

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন