panchayet

কলকাতা: হাইকোর্টের একাধিক প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথৈবচ অবস্থা। ১৪ মে ভোট ঘোষণার আগে কমিশন কেন আদালতকে জানাইনি এমন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি জানিয়েছেন, কবে ভোট হবে তা নির্দিষ্ট করবেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। কিন্তু তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া হয়, কমিশন নির্ধারিত দিনেই ভোট হচ্ছে, তা হলে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হবেন প্রায় ১.৭৫ কোটি ভোটার। এবং এটা অবশ্যই অঙ্কের বিচারে। কী ভাবে?

মনোনয়ন স্ক্রুটিনির পর কমিশনের পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, এ বারের পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যের ২০টি জেলায় সর্বাধিক ২৭ শতাংশ আসনে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কোনো প্রার্থী মনোনয়ন জমা করেননি। অর্থাৎ, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ওই ২৭ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করবেন তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে মনোনয়ন দাখিল করা প্রার্থীরা। কিন্তু মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন (২৯ এপ্রিল) দেখা যায়, মোট ৩৪.২ শতাংশ আসনে কোনো বিরোধী প্রার্থী নেই।

ওই একই আইনে পঞ্চায়েতের তিনটি স্তর মিলিয়ে ৩০ শতাংশের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করার কথা শাসক দলের প্রার্থীদেরই। অর্থাৎ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেখানে নেই, সেখানে ভোট গ্রহণের কোনো প্রশ্ন নেই। সব মিলিয়ে দাঁড়ায় ওই নির্বাচনী কেন্দ্রের ভোটারদেরও ভোট দিতে যেতে হবে না।

আরও পড়ুন: কমিশন নয়, পঞ্চায়েত ভোটের দিন নিয়ে শেষ কথা বলবে আদালত

নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, মোট ভোটারের সংখ্যা ৫.০৮ কোটি। সংখ্যাতত্ত্ববিদদের মতে, এর থেকে যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না হওয়া কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যার তুলনামূলক বিচার করা হয় তা হলে ওই ১.৭৫ কোটি ভোটারকে মতদান থেকে বিরত থাকতে হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here