প্রতীকী ছবি। সৌজন্য: ডেইলিমিল

রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়িতে এক শ্রেণির বাসিন্দাদের কাছে দীপাবলি উৎসবের মূল ভিত্তি হল কলাগাছ। সেই কলাগাছ দিন দিন অপ্রতুল হয়ে উঠছে। প্রশ্ন উঠেছে, কলাগাছের অভাবে আগামী দিনে এই উৎসব কি বন্ধই হয়ে যাবে?

রীতি অনুযায়ী প্রতি বছর দীপাবলির সময় দিনবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকার ব্যবসায়ীরা তাঁদের দোকানের সামনে কলাগাছ পুঁতে তার মধ্যে বাঁশের বাতা লাগিয়ে দেন। বাঁশের বাতার ওপরে সার সার প্রদীপ বসানো থাকে। দীপাবলির দিন সারা রাত সেই প্রদীপ জ্বলে। আবার পর দিনও জ্বালানো হয়। এই ভাবে দু’দিন ধরে দীপাবলি পালন করা হয়। মূলত অবাঙালি ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই প্রথা চালু থাকলেও এখন বাঙালি এবং অবাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ এ ভাবে দীপাবলির দু’দিন উদযাপন করেন। শুধু জলপাইগুড়ি না শিলিগুড়িতেও একই ভাবে দীপাবলি পালন করা হয়।

শহরের প্রাচীন বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জলপাইগুড়িতে এক সময় খুব বড়ো কালীপুজো হত না। তখন দিনবাজারের দীপাবলি ছিল শহরের মূল আকর্ষণ। শহরের বাসিন্দারা দিনবাজারের দীপাবলি দেখতে ভিড় করতেন। তাঁরা জানান, দীপাবলির আগের দিন রাত থেকে শহরে কলাগাছ আসা আরম্ভ হত। সারা দিন ধরে দিনবাজার এবং অন্যান্য জায়গায় কলাগাছ পোঁতার প্রক্রিয়া চলত। রাতে আলোয় আলোময় হয়ে থাকত সমস্ত এলাকা। এখনও সেই একই ধারা চলছে।

আরও পড়ুন রাজ্যে কেমন থাকবে কালীপুজোর আবহাওয়া?

বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কলাগাছ এখন দিন দিন অপ্রতুল হয়ে উঠছে। আগে জলপাইগুড়ির শহরতলি থেকে কলাগাছ আসত। এখন নগরোন্নয়নের ফলে অন্যান্য গাছপালার সঙ্গে সঙ্গে কলাগাছের সংখ্যা কমে আসছে। উৎসবের সময় কলাগাছ দুর্মূল্য হয়ে উঠছে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে গত বছর দীপাবলির সময় একটা কলাগাছের দাম ছিল ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। এ বছর এখন কত হবে কে জানে।

এর কারণও আছে। এখন শহরতলি থেকে আর কলাগাছ আসে না। এখন যা কিছু আসে তা জলপাইগুড়ি থেকে সাত আট কিলোমিটার দূর থেকে আসে। আগে শহরে গরুর গাড়িতে করে কলাগাছ আসত। কেউ শহরতলি থেকে কাঁধে করে বহন করে কলাগাছ আনত। এখন তার বদলে পিকআপ ভ্যান বা ট্রাকে করে কলাগাছ আসে। পরিবহনের খরচ অনেক বেড়েছে।

জলপাইগুড়ি মারোয়াড়ি যুবমঞ্চের প্রাক্তন সম্পাদক এবং জলপাইগুড়ির গোশালার বর্তমান সম্পাদক বিজয় আগরওয়াল বলেন, “যত দামই হোক, উৎসব পালন করতে এবং রীতি বজায় রাখতে গেলে সবাইকে খরচ করতেই হবে। কলাগাছের দাম যতই বাড়ুক উৎসবের দিনে আমাদের কিনতেই হবে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here