sal tree
Samir mahat
সমীর মাহাত

ঝাড়গ্রাম: গত বৃহস্পতিবার খবর অনলাইনে ‘শাল গাছ মুনাফার বস্তু, জঙ্গল কেটে সাফ হচ্ছে প্রশাসনের উদ্যোগেই!’ শীর্ষক সংবাদটি প্রকাশের পরই স্থানীয় স্তরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে ঝাড়গ্রাম ব্লকের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ রাজেন হাঁসদা এবং প্রাক্তন বিধায়ক তথা বনাধিকার আন্দোলনের বর্ষীয়ান নেতা সন্তোষ রানার সঙ্গে সাক্ষাৎকার ভিত্তিক প্রতিবেদনটিতে খুঁজে পাওয়া গেল তেমনই কিছু বিতর্কিত প্রশ্নের উত্তর।

বনসংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষার কথাই বিভিন্ন সভা-সমিতিতে তুলে ধরে বন দফতর। তবে জঙ্গলের শাল গাছ কাটার কথা যে আইনেই রয়েছে, সে কথা উঠে এল তাঁদের দু’জনের বক্তব্যেই।

প্রশ্ন: এই যে বছরের পর বছর বন বিভাগ ও বন কমিটির যৌথ উদ্দ্যোগে জঙ্গলের শাল গাছ কাটা হচ্ছে, এর সঙ্গে বন সংরক্ষণ বা পরিবেশ রক্ষার কী সামঞ্জস্য আছে?

রাজেন হাঁসদা: বন সংরক্ষণের আইন যেমন আছে, আবার জঙ্গলের শাল গাছ কাটার আইনও আছ।শাল গাছ নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা হয়েছে। ৮-১২ বছর বয়সে এই গাছ কাটলে গোড়া থেকে ভালো গাছ উঠবে। গাছের বয়স বেশি হলে তা হয় না। সেই কারণেই সময় থাকতে গাছ কাটা যেতে পারে। তবে পুরোটাই আইন মেনে।

সন্তোষ রানা: শাল সহ টিম্বার জাতীয় গাছের অধিকার সরকারের বন বিভাগের। তারা কাটতেই পারে। সব জায়গাতেই পরিবেশ রক্ষার নিয়মনীতি আছে। তা নির্ভর করে এলাকার জনগণের উপর।

প্রশ্ন: কেন্দ্রীয় বনাধিকার আইন চালু হয়েছে?

রাজেন হাঁসদা: হ্যাঁ হয়েছে। অরণ্যবাসী মানুষের জল-জঙ্গল-জমির অধিকার রক্ষার জন্য বনাধিকার আইন ২০০৬ সালে নতুন ভাবে কাজ শুরু করে। ওই আইন মেনেই জঙ্গলের পাট্টা দেওয়া, এমনকি গাছ বিক্রির ৪০ শতাংশ টাকা গ্রামবাসীদের দেওয়া হয়। বন বিভাগ ও বন কমিটির এই যৌথ পরিচালন ব্যবস্থা একমাত্র এই রাজ্যেই আছে। অন্য রাজ্যে সরকার একা তা বণ্টন করে। বন বিভাগ থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজও করা হয়।

সন্তোষ রানা: কেন্দ্রীয় বনাধিকার আইনের অনেকগুলি দিক আছে। জঙ্গল এলাকায় আদিবাসীদের ঘর-বাড়ি, জমির পাট্টা দেওয়া, অন্যদের ক্ষেত্রে ৭৫ বছরের বসবাসের প্রমাণ থাকা ইত্যাদি অনেক শর্তই আছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here