Connect with us

দুর্গা পার্বণ

কলকাতা-উত্তর ২৪ পরগণায় সক্রিয় রোগী ফের ৬ হাজার পার, পুজোয় সতর্ক না হলে বিপদ বাড়বে

ভিড় মণ্ডপে না গিয়ে পুজোয় ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ুন

Published

on

খবরঅনলাইন ডেস্ক: পুজো এখনও কয়েক দিন পর। কিন্তু এখন থেকে পুজোর বাজারে ভিড় হচ্ছে ব্যাপক। সাধারণ মানুষের একটা বড়ো অংশ বেরিয়ে পড়েছে পুজোর কেনাকাটার জন্য। অনেকের ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো লক্ষ্মণই দেখা যাচ্ছে না। কেন্দ্র আর রাজ্য সরকার বার বার পরামর্শ দিলেও ওই শ্রেণির মানুষ যে স্বাস্থ্যবিধিকে থোড়াই কেয়ার করছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কিন্তু রাজ্যের কোভিড-পরিস্থিতির পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে যে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যেটা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছিল, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে সেই পরিস্থিতি আবার ধীরে ধীরে উদ্বেগজনক হচ্ছে। এই আবহে আসন্ন পুজোর মরশুমে সতর্কতা অবলম্বন না করলে বিপদ যে বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কলকাতায় কী ভাবে ঊর্ধ্বমুখী হল কোভিড গ্রাফ

Loading videos...

দেশের বড়ো বড়ো শহরগুলি যখন কোভিডে জর্জরিত, তখনই পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হচ্ছিল কলকাতার। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শহরের সক্রিয় রোগীর গ্রাফটা ক্রমশ নামতে শুরু করে।

সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ক্রমশ কমতে কমতে গত ২১ সেপ্টেম্বর ৪,১৪২-তে পৌঁছে যায়। সে দিন শহরে মোট রোগীর সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছিল ৫০ হাজার ৬৬৫-তে। সে দিন শহরে সুস্থতার হার ছিল ৮৮.৬৬ শতাংশ। কিন্তু ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই ফের ঊর্ধ্বমুখী হয় শহরের কোভিড-গ্রাফ।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে শহরে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিনশো থেকে সাড়ে চারশোর মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল, সেটাই উঠে যায় ৬০০-এর ওপরে। ওই দিন থেকে এখনও পর্যন্ত শহরের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচশোর নীচে নামেনি। এমনকি তিনটে দিন তা সাতশোরও যথেষ্ট ওপরে ছিল। এই ভাবে চলতে থাকলে পুজোর ঠিক মুখে শহরের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার হয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

বেড়েছে সক্রিয় রোগীর গ্রাফও। ৬ অক্টোবর শহরে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬,০৪৩। আর এই দিনই শহরে মোট রোগীর সংখ্যা পেরিয়েছে ৬০ হাজারের গণ্ডি। বর্তমানে শহরে সুস্থতার হার ৮৭.০৬ শতাংশ। রোগী বৃদ্ধির এই গ্রাফটা যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তা হলে সুস্থতার হার যে আরও কমবে তা বলাই বাহুল্য।

উত্তর ২৪ পরগণার পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক

মোট রোগীর দিক দিয়ে উত্তর ২৪ পরগণার অবস্থান কলকাতার থেকে কিঞ্চিৎ ভালো হলেও সক্রিয় রোগী এই জেলাতেই সব থেকে বেশি। এবং গত কয়েক দিনে তা বেড়েছে যথেষ্ট উদ্বেগজনক ভাবে। গত ২১ সেপ্টেম্বর এই জেলায় সক্রিয় রোগী ছিলেন ৪,২৮৩। ৬ অক্টোবর তা বেড়ে হয়েছে ৬,১০৪। ২১ সেপ্টেম্বর উত্তর ২৪ পরগনায় সুস্থতার হার ছিল ৮৮.৪৬ শতাংশ। বর্তমানে সেটা কমে হয়েছে ৮৬.৮৮ শতাংশ।

কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগণার মৃত্যুহার নিয়েও বিশেষ উদ্বিগ্ন কেন্দ্র। দেশের যে ২৫টা জেলায় মৃত্যুহার সব থেকে বেশি, তাদের মধ্যে এই দুই জেলা রয়েছে। কলকাতায় মৃত্যুহার ২.৯৬ শতাংশ এবং উত্তর ২৪ পরগণায় ২.১৪ শতাংশ। উল্লেখ্য, বর্তমানে মৃত্যুহার সব থেকে বেশি মুম্বইয়ে (৭.৫২ শতাংশ)।

করোনাভাইরাস মারণ নয়, কিন্তু সতর্কতা তো নিতেই হবে

অনেক সংবাদমাধ্যমে করোনাভাইরাসকে মারণ ভাইরাস আখ্যা দিলেও সেটি যে আদৌ মারণ নয়, সেটা মৃত্যুহারের পরিসংখ্যান দেখিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে ভারতে মৃত্যুহার দেড় শতাংশের কিছু বেশি। পশ্চিমবঙ্গে মৃত্যুহার ১.৯২ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা অনেকেই বলছেন, করোনার প্রকৃত মৃত্যুহার ০.১ শতাংশেরও কম। কারণ বিভিন্ন সেরো সমীক্ষাতেই দেখা গিয়েছে ভারতে প্রকৃত কোভিড-আক্রান্তের সংখ্যাটা ঠিক কতটা বেশি।

কিন্তু মারণ না হলেও কোভিডে আক্রান্ত হলে ভোগান্তি তো রয়েছেই। এই পরিস্থিতিতে যেচে অসুস্থ হওয়ার তো কোনো মানে হয় না। তাই এ বছর পুজোয় ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে যদি সুস্থ থাকা যায়, আগামী দিনগুলো যে আপনারই ভালো হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এসওপি জারি কেন্দ্রের

একটা জায়গায় বেশি ভিড় হলে এবং সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করলে সংক্রমণ যে মাত্রাছাড়া ভাবে বাড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই কারণেই উৎসবের মরশুমের জন্য নতুন করে নির্দেশিকা অর্থাৎ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোটোকল (এসওপি) জারি করেছে কেন্দ্র।

নির্দেশিকাগুলি দেখে নিন এখানে ক্লিক করে।

ভিড় মণ্ডপে না গিয়ে পুজোয় ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ুন

দুর্গাপুজোয় এ বার আনন্দ করুন অন্য রকম ভাবে। ভিড় মণ্ডপে গিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি না বাড়িয়ে বরং বেরিয়ে আসুন পশ্চিমবঙ্গে অন্য প্রান্ত থেকে। হ্যাঁ, অনেকেই হয়তো কথা শোনাবেন। কুমন্তব্যও করতে পারেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এবং কোনো ফাঁকা জায়গায় গিয়ে তিন চার দিন ভ্রমণ করে এলে কোনো সংক্রমণের ঝুঁকিই থাকবে না।

সমুদ্র দেখতে হলে, দিঘা, মন্দারমণি না গিয়ে তাজপুর যেতে পারেন। কিংবা আরও ফাঁকা জায়গা চাইলে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। আর নইলে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স তো আছেই। অতএব, এ বারই সুযোগ, পুজোর মধ্যে আমাদের পশ্চিমবঙ্গটাকে আরও ভালো করে চিনে নিন।

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

দঃ ২৪ পরগনা

মা ও শিশুসন্তানদের জন্য কাপড় ও খাবার নিয়ে হাওড়ার বালিতে ‘সহমর্মী’

মৃন্ময়ী ‘মা’ যখন মণ্ডপে ২৫ লক্ষ টাকার গয়নায় সুসজ্জিত, তখন তাঁর সন্তানেরা দু’ মুঠো অন্নের আশায় ঝাড়খণ্ড থেকে এসে বালির ইটভাটায় লড়াই করে চলেছে।

Published

on

বালিতে সহমর্মীর ত্রাণ।

সুব্রত গোস্বামী

রাস্তায় একটা ব্যানারে হঠাৎ চোখ পড়ল। তাতে লেখা – ‘প্রতিমাতেই শুধু মা দুর্গা নন, প্রতি-মাতেই মা দুর্গা’। এই অনুভবেই বিশ্বাসী গড়িয়া সহমর্মী সোসাইটি (Garia Sahamarmi Society)।  

পুজো উপলক্ষ্যে মায়েদের হাতে নতুন কাপড় তুলে দেওয়ার জন্য সহমর্মী হাজির হয়ে গিয়েছিল বালির কিছু ইটভাটা-সহ কাছাকাছি কয়েকটি অঞ্চলে। মৃন্ময়ী ‘মা’ যখন মণ্ডপে ২৫ লক্ষ টাকার গয়নায় সুসজ্জিত, তখন তাঁর সন্তানেরা দু’ মুঠো অন্নের আশায় ঝাড়খণ্ড থেকে এসে বালির ইটভাটায় লড়াই করে চলেছে।

Loading videos...
সহমর্মী পৌঁছে গিয়েছিল বালিতে।

ইটভাটায় গিয়ে যা দেখা গেল, তা কোনো ভাবেই ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ৬ ফুট বাই ৮ ফুট একটা ছোট্ট ঘরে কোনো রকমে এঁরা বাস করছেন। করোনাকালে শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে চলার কথা বলা হচ্ছে। শারীরিক দূরত্ববিধি মানা এঁদের কাছে বিলাসিতা।

সেই ছোট্ট ঘরে একটাও জানলা নেই। মেঝেতে পড়ে আছে ছোট্ট শিশুর দল।  দেখলে মনে হয়, আফ্রিকার কোন দেশ থেকে এসেছে। এই আমাদের আধুনিক ভারত! চাঁদের মাটিতে আমরা যখন চন্দ্রযান পাঠাতে ব্যস্ত, তখন আমারই দেশের মানুষের এই চরম দুর্ভোগ।

বালির বিআইভিএ (BIVA), তার পর বিবিএ (BBA), বিএনএস (BNS) ও বিবিএ২ (BBA2) ইটভাটা এবং বিদ্যাসাগর কলোনিতে পৌঁছে গিয়েছিল ‘সহমর্মী’। ‘সহমর্মী’ পৌঁছে গিয়েছিল বেলানগরের ভগবানের ভাণ্ডারে।

বালির ওই সব জায়গায় ইটভাটায় ৫০ জন মহিলার হাতে শাড়ি ও খাবার এবং ১০০ জন শিশুর মুখে খাবার তুলে দেওয়া হল ‘সহমর্মী’র পক্ষ থেকে।

গড়াগাছায় সহমর্মীর ত্রাণ।

শুধুই বালির ইটভাটাই নয়, ‘সহমর্মী’-র আয়োজনে মহাষ্টমীর দিন গড়িয়া গড়াগাছায় ১৪০ জন শিশুর হাতে দুপুরের খাবার তুলে দেওয়া হল। এখানকার ছোট্ট দুগ্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশদের হাতে পুজোর নৈবেদ্য তুলে দিতে পেরে ‘সহমর্মী’ ধন্য ও ঋদ্ধ হল।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

পিতৃমাতৃহীন শিশুদের নিয়ে পুজোর দিনে ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এর অভিনব উদ্যোগ

Continue Reading

কলকাতা

পিতৃমাতৃহীন শিশুদের নিয়ে পুজোর দিনে ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এর অভিনব উদ্যোগ

Published

on

লোহারুকা গ্রিন ওয়েসিস-এর পুজোয় ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এর ছোট্ট শিশুরা।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: উৎসব মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দ আরও জোরদার হয়ে ওঠে যখন সঙ্গে থাকে প্রিয়জনেরা! সেই প্রিয়জনদের খোঁজার প্রচেষ্টাতেই ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ (Durga and Friends) একত্রিত করেছে ছোটো ছোটো কিছু পিতৃমাতৃহীন শিশুকে, যারা এক সঙ্গে বড়ো হয়ে উঠছে এই হাউসে।

আর এই ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-কে সঙ্গ দিয়েছেন কিছু বন্ধু যাঁরা এই ছোট্ট বন্ধুদের তাঁদের মা-বাবার অভাব কোনো দিন বুঝতে দেননি।

লোহারুকা গ্রিন ওয়েসিস-এর পুজোয় ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’।

এই মহৎ প্রচেষ্টার সঙ্গে যিনি নিজেকে প্রথম যুক্ত করেছেন তিনি শ্যামসুন্দর জুয়েলার্স-এর পরিচালক মাননীয় রূপক সাহা। এবং তাঁর সঙ্গে এগিয়ে এসেছেন সত্যেন্দ্রনাথ মিশ্রা, সুরজিৎ কালা সোহো প্রমুখ।

Loading videos...

প্রতি বছর এই খুদে বন্ধুদের সঙ্গে দুর্গাপূজার একটি বিশিষ্ট দিন সকলে উপভোগ করেন অঞ্জলি দিয়ে, প্যান্ডেল ঘুরে এবং এক সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজন করে।

কিন্তু এই বছরটা একটু আলাদা! করোনার কবল থেকে বাঁচাতে এই বার এগিয়ে এল লোহারুকা গ্রিন ওয়েসিস-এর (Loharuka Green Oasis)  আবাসিকবৃন্দ। এই বছর ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এর ছোট্ট বন্ধুরা আমন্ত্রিত হলেন লোহারুকা গ্রিন ওয়েসিস-এর আবাসিকদের সঙ্গে একটি দিন উপভোগ করার জন্য!

লোহারুকা গ্রিন ওয়েসিস-এ ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’।

আবাসিক প্রাঙ্গণের দুর্গাপূজায় যোগদানের আমন্ত্রণ পেয়ে খুব খুশি ছোট্ট শিশুরা। তারা আবাসিক প্রাঙ্গণের অন্য শিশুদের সঙ্গে দিনটা কাটাল অঞ্জলি, খেলাধুলা ও খাওয়াদাওয়ার মাধ্যমে। 

আবাসিকদের তরফ থেকে সভাপতি দেবপ্রসাদ চক্রবর্তী জানালেন, পরবর্তী সময়েও  লোহারুকা গ্রিন ওয়েসিস ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এর পাশে থাকবে।

শারদোৎসব মানেই যে মেলবন্ধন, সেই সত্যি আরও প্রমাণ করে দিলেন লোহারুকা গ্রিন ওয়েসিস-এর আবাসিকরা এবং ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

দুর্গাপুজোয় সচেতনতার পরীক্ষায় উতরে গেল কলকাতা

Continue Reading

কলকাতা

দুর্গাপুজোয় সচেতনতার পরীক্ষায় উতরে গেল কলকাতা

পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই, ঘরবন্দি থেকে বা নিদেনপক্ষে পাড়াবন্দি থেকে, এ বার দুর্গাপূজা উদযাপন করল কলকাতা

Published

on

লালাবাগান সর্বজনীনের পুজো, মহানবমীর বিকেলে।

বিশেষ প্রতিনিধি: ভালো ভাবেই পাশ করে গেল কলকাতা (Kolkata) । আশঙ্কা ছিল, বাঙালির সব চেয়ে প্রিয় উৎসব দুর্গাপুজোর টানে কোভিড সংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ উড়িয়ে দিয়ে বেসামাল হয়ে যাবে মহানগর। ফলত আরও বাড়বে করোনা সংক্রমণ।

দুর্গাপুজোর এই পাঁচ-ছ’ দিনে করোনা সংক্রমণ বাড়ল কি না, তা বোঝা যাবে দিন কয়েক পর। তবে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই, ঘরবন্দি থেকে বা নিদেনপক্ষে পাড়াবন্দি থেকে, এ বার দুর্গাপূজা (Durgapuja 2020) উদযাপন করল কলকাতা।

উত্তর কলকাতার একটি সর্বজনীন পূজামণ্ডপ।

মহানবমীর বিকেলে আরও এক দফা নগর পরিক্রমায় বেরোনো হল। গন্তব্য ছিল উত্তর কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল সেরে দক্ষিণের প্রান্তিক এলাকা।

Loading videos...

কলকাতার অন্যতম প্রাচীন সর্বজনীন পুজো সিমলা ব্যায়াম সমিতি বিবেকানন্দ রোডে। এই পুজো ছাড়াও এই রাস্তায় রয়েছে বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাব, চালতাবাগান সর্বজনীনের মতো বেশ প্রাচীন বিখ্যাত সর্বজনীন পুজো।

মহানবমীর বিকেলে বিবেকানন্দ রোড।

মহানবমীর বিকেলে বিবেকানন্দ রোড আর পাঁচটা সাধারণ দিনের থেকেও শুনশান। সব মণ্ডপেই ঝুলছে প্রবেশ নিষেধ বোর্ড। হাতে গোনা কয়েক জন দর্শনার্থী মণ্ডপের বাইরে থেকেই প্রতিমা দর্শন করে চলে যাচ্ছেন। কোনো কোনো প্রতিমার দর্শন হচ্ছে গাড়িতে বসেই। যে হেতু রাস্তায় তেমন ট্রাফিক নেই, তাই পুলিশের বাধাও নেই।

মানিকতলা মোড় পেরিয়ে বাঁ হাতি রাস্তা রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রিট। একটু যেতেই ডান দিকে পড়ল লালাবাগান সর্বজনীন। গাড়িতে বসেই এমন সুন্দর প্রতিমা দর্শন হবে ভাবাই যায়নি। ওই ব্যস্ত রাস্তায় স্বচ্ছন্দে গাড়ি দাঁড় করানো হল, প্রতিমা দর্শন হল, ছবি তোলা হল অবাধে। ভাবা যায়?

বিবেকানন্দ রোডে বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের গলি, মহানবমীর বিকেলে।

একটু এগিয়ে লালাবাগান নবাঙ্কুর-এর পুজো, একটু ভিতরে। গাড়ির জন্য রাস্তা বন্ধ। গুটি গুটি পায়ে চলেছেন নামমাত্র দু’-চার জন দর্শনার্থী।

রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রিট থেকে বেরিয়ে ডান দিকের পথ ধরা হল উলটোডাঙা মোড়ের উদ্দেশে। বাঁ দিকে পড়ে থাকল গৌরীবেড়িয়া সর্বজনীন। অরবিন্দ সেতু পেরিয়ে উলটোডাঙা মোড়গামী এই রাস্তা পুজোয় অগম্য হয়ে যায়। গাড়ি তো দূরের কথা, পায়ে হাঁটাও দায় হয়ে ওঠে।

এই রাস্তার আশেপাশের গলিতে বহু বিখ্যাত পুজো আয়োজিত হয় – কবিরাজ বাগান সর্বজনীন, করবাগান সর্বজনীন, উলটোডাঙা পল্লিশ্রী, তেলেঙ্গাবাগান, শুঁড়ির বাগান সর্বজনীন ইত্যাদি। এই পথ ধরে এই মহানবমীর বিকেলে একেবারে অবাধ যাত্রা। পথে নতুন পোশাক পরে কিছু মানুষ চলেছেন প্রতিমা দর্শনের উদ্দেশ্যে।

ব্যস্ত উলটোডাঙা মোড়ের সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি মহানবমীর বিকেলে।

অন্যান্য বার এই বারোয়ারি পুজোগুলো দেখার জন্য দীর্ঘ লাইন পড়ে যায় উলটোডাঙা মোড়গামী মূল সড়ক থেকেই। এক একটা পুজো দেখা সাঙ্গ করতে সময় লেগে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আর এ বার মণ্ডপের পথে ক’ জন হেঁটে চলেছেন, তা বোধহয় গুনে ফেলা সম্ভব।

উত্তরের পুজো কেমন হচ্ছে তার একটা আন্দাজ পাওয়া গেল। শহরের দক্ষিণ প্রান্তে ফেরার পথে মনে হল একবার রাসবিহারী কানেক্টরে বোসপুকুর শীতলামন্দিরের পুজো দেখে আসা যাক। উনিশ বছর আগে মাটির ভাঁড়ের পুজো করে বিখ্যাত হয়েছিল বোসপুকুর। সেই খ্যাতি তারা আজও ধরে রেখেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এই প্রতিমা দর্শন করতে হয়।

বোসপুকুর শীতলামন্দির, মহানবমীর বিকেলে।

সেই বোসপুকুর শীতলামন্দির অবাক করল। রাসবিহারী কানেক্টরের একেবারে মণ্ডপের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে প্রতিমাদর্শন হল, ছবিও তোলা হল, পুলিশের নজরদারিতেই।

মহাসপ্তমী ও মহানবমীতে মহানগর পরিক্রমা করে বোঝা গেল হাতে গোনা কয়েকটি বিখ্যাত পুজো ছাড়া সর্বজনীন পুজোগুলো এ বার মোটামুটি ফাঁকাই থেকেছে। কলকাতাবাসী এ বার মোটামুটি ভাবে নিজের পাড়ার পুজোটিই দেখেছেন। পাড়ার চৌকাঠ পেরিয়ে দূরে পাড়ি জমাননি। আর যতটুকু অফিস-কাছারি চলছে, পুজোয় তা-ও বন্ধ। তাই এই আনলক পিরিয়ডেও বাস যে ভিড় দেখা যায়, দুর্গাপুজোর এ ক’ দিন তা-ও দেখা গেল না। সারা দিনই বাস একেবারেই ফাঁকা, তাই বেশি রাত পর্যন্ত বাসও চলেনি।

আনলক পিরিয়ডে নানা রকম বাধানিষেধের মধ্যে চলা মেট্রো রেল যত যাত্রী পরিবহণ করেছে, পুজোর দিনগুলোতে তার অর্ধেকও করেনি। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের হিসেবে, সপ্তমীর দিন তাঁদের পরিষেবা ব্যবহার করেছেন ৩৪ হাজার যাত্রী। অথচ পঞ্চমীর দিন মেট্রোয় যাত্রীসংখ্যা ছিল ৮৪,৮০১ জন। মোটামুটি একই ছবি দেখা গিয়েছে, মহাষ্টমী ও মহানবমীতেও।

এ যেন বনধের চেহারা। মহানবমীর বিকেলে রাসবিহারী কানেক্টর।

মেট্রো আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ট্রেনে বা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কোনো ভিড়ই ছিল না। তা ছাড়া অন্যান্য বারের মতো এ বারে বেশি রাত পর্যন্ত মেট্রো চালানোও হয়নি।

কলকাতার পুজো দর্শনার্থীদের একটা বড়ো অংশ আসেন কলকাতার আশেপাশের জেলা থেকে। এ বার লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় তাঁদেরও বেশির ভাগ মহানগরে আসেননি। পুজোর দিনগুলোতে শহর শুনশান থাকার এটা একটা বড়ো কারণ।

বনেদিবাড়ির পুজোও কলকাতার পুজোর একটা বড়ো আকর্ষণ। কিন্তু শহরের বেশির ভাগ বনেদিবাড়ির পুজোতেও এ বার সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল না। নিজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বনেদিবাড়ির পুজো।

দশমীও ম্রিয়মাণ বেশির ভাগ মণ্ডপে। নেই সিঁদুরখেলা, নেই বিসর্জনের শোভাযাত্রাও। সোমবার সকাল থেকেই বিসর্জন শুরু হয়ে গিয়েছে। কোথাও কোথাও তো মণ্ডপচত্বরেই প্রতিমাকে গলিয়ে ফেলা হচ্ছে পাইপের জলের তোড়ে। কোনো কোনো বারোয়ারি কমিটি তো মণ্ডপের সামনেই জলের ব্যবস্থা করে সেখানে প্রতিমা বিসর্জন করছে।

ছবি: শ্রয়ণ সেন

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

নেই সিঁদুরখেলা, শোভাযাত্রা, কোভিডের আবহে রাজ্যে মনখারাপের দশমী

Continue Reading
Advertisement
ফুটবল4 mins ago

পিকে-চুনী স্মরণে ডার্বি শুরুর আগে নীরবতা পালন হোক, আইএসএল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাল ইস্টবেঙ্গল

প্রযুক্তি5 mins ago

আরও ৪৩টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করল ভারত

পূর্ব মেদিনীপুর19 mins ago

খেজুরি থেকে ‘এক সঙ্গে ভালো থাকা’র বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

দেশ31 mins ago

১৪৫ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে পারে ‘নীবর’, তামিলনাড়ু-পুদুচেরিতে বুধবার সরকারি ছুটি

শিল্প-বাণিজ্য55 mins ago

৫০০তম ‘ওয়ার্ল্ড অব টাইটান’ স্টোর খুলল কলকাতায়

ফুটবল1 hour ago

জীবনের প্রথম ডার্বিতে নামার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন সন্দেশ জিঙ্ঘান

ক্রিকেট1 hour ago

প্রথম দুটি টেস্ট থেকে বাদ রোহিত-ইশান্ত, সংশয়ে শেষ দুটি টেস্টে উপস্থিতি নিয়েও

শিক্ষা ও কেরিয়ার2 hours ago

টেট-২০১৪ পাশ যোগ্য প্রার্থীদের শিক্ষকপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি

কেনাকাটা

কেনাকাটা3 days ago

লিভিংরুমকে নতুন করে দেবে এই দ্রব্যগুলি

খবর অনলাইন ডেস্ক: ঘরের একঘেয়েমি কাটাতে ও সৌন্দর্য বাড়াতে ডিজাইনার আলোর জুড়ি মেলা ভার। অ্যামাজন থেকে তেমনই কয়েকটি হাল ফ্যাশনের...

কেনাকাটা6 days ago

কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস, দাম একদম নাগালের মধ্যে

খবর অনলাইন ডেস্ক: কাজের সময় হাতের কাছে এই জিনিসগুলি থাকলে অনেক খাটুনি কমে যায়। কাজও অনেক কম সময়ের মধ্যে করে...

কেনাকাটা3 weeks ago

দীপাবলি-ভাইফোঁটাতে উপহার কী দেবেন? দেখতে পারেন এই নতুন আইটেমগুলি

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই কালীপুজো, ভাইফোঁটা। প্রিয় জন বা ভাইবোনকে উপহার দিতে হবে। কিন্তু কী দেবেন তা ভেবে পাচ্ছেন...

কেনাকাটা4 weeks ago

দীপাবলিতে ঘর সাজাতে লাইট কিনবেন? রইল ১০টি নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আসছে আলোর উৎসব। কালীপুজো। প্রত্যেকেই নিজের বাড়িকে সুন্দর করে সাজায় নানান রকমের আলো দিয়ে। চাহিদার কথা মাথায় রেখে...

কেনাকাটা2 months ago

মেয়েদের কুর্তার নতুন কালেকশন, দাম ২৯৯ থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজো উপলক্ষ্যে নতুন নতুন কুর্তির কালেকশন রয়েছে অ্যামাজনে। দাম মোটামুটি নাগালের মধ্যে। তেমনই কয়েকটি রইল এখানে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা2 months ago

‘এরশা’-র আরও ১০টি শাড়ি, পুজো কালেকশন

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই পুজো আর পুজোর জন্য নতুন নতুন শাড়ির সম্ভার নিয়ে হাজর রয়েছে এরশা। এরসার শাড়ি পাওয়া...

কেনাকাটা2 months ago

‘এরশা’-র পুজো কালেকশনের ১০টি সেরা শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো কালেকশনে হ্যান্ডলুম শাড়ির সম্ভার রয়েছে ‘এরশা’-র। রইল তাদের বেশ কয়েকটি শাড়ির কালেকশন অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা2 months ago

পুজো কালেকশনের ৮টি ব্যাগ, দাম ২১৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : এই বছরের পুজো মানে শুধুই পুজো নয়। এ হল নিউ নর্মাল পুজো। অর্থাৎ খালি আনন্দ করলে...

কেনাকাটা2 months ago

পছন্দসই নতুন ধরনের গয়নার কালেকশন, দাম ১৪৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজোর সময় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না পরতে কার না মন চায়। তার জন্য নতুন গয়না কেনার...

কেনাকাটা2 months ago

নতুন কালেকশনের ১০টি জুতো, ১৯৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো এসে গিয়েছে। কেনাকাটি করে ফেলার এটিই সঠিক সময়। সে জামা হোক বা জুতো। তাই দেরি...

নজরে