চলছে নৃত্যপ্রদর্শনী। নিজস্ব চিত্র।
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: ফাঁকা সবুজ মাঠ, রঙবেরঙের শাড়ি, মাথায় লাল ফিতে। পোশাকের সঙ্গে সেজে উঠেছে ছাতাও। তালে তালে কাঁসরের ঘণ্টার সঙ্গে পা মেলাচ্ছেন ৪৪টি আদিবাসী নাচের দলের মহিলা সদস্যরা। পিছিয়ে নেই পুরুষরাও। কাপড় পরে নাচের তালে তালে কখনও বাদ্যযন্ত্র আবার কখনও ঘণ্টার আওয়াজ। মন আর চোখ জোড়ানো দুইয়ের সাক্ষী জঙ্গলমহলের মানুষ।

বাঁকুড়ার আদিবাসী লোকসংস্কৃতিকে তুলে ধরতে বিশেষ উদ্যোগ নিল বাঁকুড়া জেলা পুলিশ প্রশাসন। ২০১১ সালের মাওবাদী তকমা ছেড়ে অনেকটাই স্বাভাবিক জঙ্গলমহল। মাওবাদী সন্ত্রাস, গোলাগুলির শব্দ আজ ফিকে। হাসি ফুটেছে সাধারণ মানুষের মুখে। পুলিশের উদ্যোগে নতুন করে নিজেদের সংস্কৃতির প্রসারে উঠে পড়ে লেগেছেন তাঁরা।

নিজস্ব চিত্র।

জনসংযোগ বৃদ্ধির উদ্দেশ্য ইতিমধ্যেই একাধিক প্রকল্প শুরু করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। জেলার প্রতিটি থানার উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আদিবাসী নৃত্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। শনিবার সিমলাপাল থানার উদ্যোগে স্থানীয় হাই স্কুল ফুটবল মাঠে জঙ্গলমহল কাপ উপলক্ষ্যে আদিবাসী নৃত্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। থানা এলাকার ৪৪টি আদিবাসী নাচের দল এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথম তিন স্থানাধিকারী দলকে পুরস্কৃত করা হবে।

আরও পড়ুন মুকুটমণিপুরে পাখির মৃত্যুমিছিল কেন, উত্তর চান এলাকাবাসীরা

সাধারণ মানুষ জেলা পুলিশ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এই নৃত্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সনাতন মাণ্ডি বলেন, “খুব ভালো লাগছে, আমরা পুরস্কার পাব, এই আশায় এখানে যোগ দিয়েছি। আগের থেকে জঙ্গলমহলের মানুষ খুব ভালো আছে।”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন