কলকাতা: ছাত্র সংগঠনের প্রধান কাজ তিনটে নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং খেলাধুলো, কিন্তু কালের বিবর্তনে ছাত্র ভর্তি করানোই এখন তাদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কাজ ছাত্র সংগঠনের নয়। এ ভাবেই ছাত্র সংগঠনের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলিপুর ক্যাম্পাসে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময়ে টিএমসিপির গোষ্ঠীদন্দের কথাও কার্যত মেনে নেন পার্থবাবু। সেই সঙ্গে টিএমসিপির দুই বিবাদমান গোষ্ঠীর দুই নেতাকে এক সঙ্গে কাজ করার বার্তা দেন শিক্ষামন্ত্রী। সম্প্রতি টিএমসিপির গোষ্ঠীদন্দে একাধিকবার অগ্নিগর্ভ হয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস।

ছাত্রভর্তি নিয়ে সাম্প্রতিক কালে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএমসিপি ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে। এ দিন টিএমসিপি নেতাদের পাশে বসিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মেধার সঙ্গে আপস করে আমরা সমাজকেই বঞ্চিত করছি। মেধাকে আগে আনতে হবে। জ্ঞান অর্জনই আমাদের প্রধান কাজ হওয়া উচিত।”

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কেন পড়াশোনার মানে পিছিয়ে পড়ছে, সে ব্যাপারেও এ দিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্যকে পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আপনাদেরও সে ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।” সেই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর উপদেশ, “যাদবপুর বা বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় যদি ছাত্রছাত্রীদের জন্য ওয়াই-ফাই পরিষেবা চালু করতে পারে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কেন পারবে না? টাকা জমিয়ে রাখলে চলবে না, ছাত্রছাত্রীদের জন্য তা খরচ করতে হবে। যাদবপুর যদি এক নম্বরে আসতে পারে, কলকাতা কেন নয়!”

ছাত্রছাত্রীদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর উপদেশ কথায় কথায় বিক্ষোভ প্রদর্শন না করে, পঠনপাঠনেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here